আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাংবাদিকদের উপর কোপ, তথ্যের নথি প্রকাশে সরকারি অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে এবার ব্ল্যাকআউট করে প্রতিবাদ জানাল অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় এবং আঞ্চলিক, সব কটি দৈনিক তাদের প্রথম পাতা কালো রং–এ ছেপেছে। টিভি চ্যানেলগুলিও খবরের বদলে শুধু বিজ্ঞাপন চালিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছে, ‘‌যখন সরকার আপনার থেকে সত্যি লুকোয় তখন আপনি কী আর দেখাবেন?‌’‌
সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের আইনের আওতায় না আনা, সরকারি তথ্য প্রকাশব্যবস্থার স্বাধীনতা বজায় রাখা, মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের না ফাঁসানোর মতো ইস্যুতেই এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিকরা বলছেন, প্রত্যেক অস্ট্রেলীয়র অধিকার আছে তাঁদের নামে সরকার কী কী জরুরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার।
দিন কয়েক আগে শিশু যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়া ভ্যাটিকানের খাজাঞ্চি কার্ডিনাল জর্জ পেলের বিরুদ্ধে আদালতের রায়দানের দিন অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমকে আদালতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল দেশের সরকার। আদালতে উপস্থিত বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি যেখানে বলেছিল পেলকেই দণ্ডিত করেছেন বিচারক, সেখানে কয়েকটি অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তি আসলে এক অজ্ঞাতপরিচয় মানুষ। ওই ঘটনায় এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিল অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। এরপর সরকারি গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এবিসি–র সম্পাদকের অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিস। এতেই ঘৃতাহুতি পরে বিক্ষোভে। যা চরম আকার নিয়েছে সোমবার।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের এই বিক্ষোভে ভারতীয় কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অস্ট্রেলিয়া পারল, তাহলে ভারত কবে পারবে। কারণ যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তথ্যের অধিকার আইন নিয়ে এমনিতেই অস্বস্তিতে থাকে কেন্দ্র। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিন কয়েক আগেই অমিত শাহ বলেছিলেন বর্তমানে আরটিআই–এর মামলা অনেক হারে কমে গিয়েছে মোদি সরকারের স্বচ্ছতার কারণে। এমনকি তিনি তথ্যের অধিকার আইন পুরোপুরি বিলুপ্ত করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আর সেটা হলে যে সরকারি কোনও কাজেই আমজনতার প্রশ্ন তোলার কোনও অধিকার থাকবে না এবং সেটা যে গণতন্ত্রের পক্ষে রীতিমতো ভয়ানক সেকথা একবাক্যে স্বীকার করছেন বিশেষজ্ঞরা।        ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top