আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অসামান্য সুন্দরী, দুর্ধর্ষ জ্ঞানী, অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারিণী। ১৯ শতকে ইরাকের রাজকুমারী আনিস আই–দোলেহ্‌ সম্পর্কে এই কয়েকটি বিশেষণই বোধহয় যথেষ্ট নয়। তাঁর বিশেষত্ব, তাঁর গোঁফ। অপার্থিব রূপের অধিকারিণীর ঠোঁটের উপর ওই গোঁফের রেখা স্পষ্টতই দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু মুখমন্ডলের এই খুঁত যেন আশির্বাদ হয়ে এসেছিল আনিসের জীবনে। প্রচন্ড ধনী রাজ পরিবারের অসাধারণ বিদুষী রাজকন্যার এই শারীরিক খুঁত নিয়েই তাঁর পাণিগ্রহণে ইচ্ছুক ছিলেন ইরাক এবং লাগোয়া রাষ্ট্রগুলির কমপক্ষে দেড়শো রাজপুরুষ। শুধু আনিসের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আত্মঘাতীই হয়েছিলেন ১৩ জন।
অবশেষে পারস্যের রাজা নাসের আল–দিন শাহ কাজারের প্রেমে পড়ে তাঁকেই স্বামী হিসেবে বরণ করেন আনিস।

আনিসকে বিয়ের পর, স্ত্রীর পরামর্শে বহু বছর দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন কাজার। তাঁর সুশাসনের গাথা আজও বিদ্যমান ইরাক–ইরানে। কারণ আনিস ছিলেন তৎকালীন ইরাকের গুটিকয়েক শিক্ষিতা মেয়েদের মধ্যে অন্যতম। কূটনীতি এবং রাষ্ট্রশাসন নিয়ে তাঁর জ্ঞানের পরিধি ছিল অসাধারণ। যে কোনও ধরনের কূটনীতি বিষয়ক সমস্যা বা দুপক্ষের গন্ডগোল আনিস খুব সহজেই সমাধান করে দিতেন। তাই বালিকা বয়স থেকেই রাষ্ট্রশাসনের জন্য আনিসের পরামর্শ নিতেন তাঁর বাবা, কাকা, দাদারা। বিয়ের পর স্বামীকেও নিজের জ্ঞানের ভান্ডার দিয়ে সমৃদ্ধ করেছিলেন আনিস আই–দোলেহ্‌।
ছবি:‌ ডেইলি হান্ট    

জনপ্রিয়

Back To Top