আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সামনের রাস্তাটা জনমানবশূন্য। যেন অঘোষিত বন্‌ধ। জাপানকে তটস্থ করেছে সুপার টাইফুন ‘‌হাগিবিস’। আর রবিবার সকালেই তা আছড়ে পড়ে তোলপাড় করে দিল জাপান–সহ রাজধানী টোকিও–কে। সেনা নামিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। বিশাল ধস এবং নদীর জল বিপদসীমা ছাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। 
এখানকার আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর মিলেছিল, ‘‌হাগিবিস’‌–‌এর জেরে ৩০ ইঞ্চি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার গতিতে ঝড় আসবে। সেইসঙ্গে সমুদ্রে ৪১ ফুট উচ্চতার ঢেউ ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে ‘‌হাগিবিস’‌ বলে জানানো হয়েছিল। এবার সেই আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণিত করে ভয়াবহ আকার নিল ‘‌হাগিবিস’। তবে শক্তি অনেক ক্ষয় হয়ে গিয়েছে বলে খবর। 
ইতিমধ্যেই এখানে রাগবি বিশ্বকাপের আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। কারণ জাপানের সদর শহর বানভাসীর আকার নিয়েছে। নাগানো এলাকায় জলস্তর বাড়ির দোতলা পর্যন্ত উঠেছে। চিকুমা নদীর জলে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। জাপানে সেনারা কপ্টারে করে উদ্ধারকাজ করতে শুরু করেছে। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৪২৭টি বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। আর ১ হাজার ৪১৭ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 
এই পরিস্থিতিতে সমস্ত ট্রেন, বুলেট ট্রেন এবং বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে ১১ জন মারা গেলেও এখনও পর্যন্ত ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে খবর। হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যত্র। ‘‌হাগিবিস’–এর গতি ছিল ২১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। বয়েছে ১৪ হাজার কিমি জুড়ে। উত্তর থেকে উত্তর–‌পশ্চিম জাপান চার গতিপথ। এখন শক্তিক্ষয় হয়েছে অনেকটাই। 

জনপ্রিয়

Back To Top