আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে এবার সুর নরম করল পাকিস্তান। টানা বিক্ষোভের চাপে পড়ে এবার সেখানে গণভোটের আয়োজন করতে চায় পাক সরকার। পাক দখলদারির বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। ২০১৯ সালে মুজাফ্ফরাবাদে গিয়ে গো ব্যাক শুনতে হয়েছিল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। ‘‌কাশ্মীর বনেগা হিন্দুস্তান’‌ স্লোগানও দিয়েছেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। এই সাঁড়িশি আক্রমণে মুখে পড়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণভোট করানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
এই বিষয়ে ইমরান খান বলেন, ‘‌দেশের মানুষ এসে দেখে যান কাশ্মীরের পরিস্থিতি কী। সরকার চায় আজাদ কাশ্মীরে গণভোট হোক। সেখানকার মানুষই ঠিক করুন তাঁরা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবেন নাকি স্বাধীন হয়ে যাবেন।’‌ আসলে চাপে পড়েই বাপ বলছেন ইমরান বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। জার্মানির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে–কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, আজাদ কাশ্মীরের অবাধ নির্বাচন হয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকার গঠন হয়েছে সেখানে। দেশের অন্যান্য প্রদেশের মতো তাদেরও অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমি এখনও বলছি, দুনিয়ার যেকোনও প্রান্ত থেকে মানুষ এসে দেখে যান। কেমন রয়েছেন আজাদ কাশ্মীরের মানুষ। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আজাদ কাশ্মীরের তাঁরা আসতে পারলে ভারতীয় কাশ্মীরে তাঁরা যেতে পারবেন না।
যদিও পাক প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে মিথ্যা কথা বলে বিশ্বের দরবারে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কারণ সত্যিটা হল, ১৯৭৪ সালের পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সংবিধান অনুসারে সেখানকার স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে পাক অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করতে হয়। আর পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যের শপথও নিতে হয় বাসিন্দাদের। স্বাধীনতার দাবি জানালে চূড়ান্ত রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মধ্যে পড়তে হয় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। আজাদি’‌র দাবিতে পথে বিক্ষোভ দেখান কয়েক হাজার মানুষ। এমনকী জনরোষের হাত থেকে বাদ যায়নি পাক সেনা। এই পরিস্থিতিতে সুর নরম করে গণভোট করতে চায় পাক প্রধানমন্ত্রী। 

জনপ্রিয়

Back To Top