‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়রা বিপদে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে শুধু প্রাণ নিয়ে না, চাকরি নিয়েও টানাটানি শুরু হয়েছে সেদেশে। চাকরি খোয়ালে এইচ–১ বি ভিসার অধিকারীদের সেদেশে থাকার অনুমতিও থাকবে না।
করোনাভাইরাস সংকটের কারণে আমেরিকাতে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা। আমেরিকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের বাসিন্দারা হুমকির মুখে পড়েছেন। সবথেকে বিপদে পড়েছেন ভারতীয়রা। সবথেকে বেশি সংখ্যক এইচ–১ বি ভিসাধারকেরা ভারতের নাগরিক। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তাঁদের আবেদন, চাকরি হারানোর পর আমেরিকায় বসবাস করার সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হোক। ৬০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে করা হোক।
কী এই এইচ–১ বি ভিসা?‌ 
তাত্ত্বিক বা প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনে মার্কিন সংস্থাগুলিকে ভিনদেশি কর্মী নিয়োগ করার অনুমতি দেয় এই ভিসা। এছাড়া এই ভিসাধারক ভিনদেশিরা আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করতে পারবেন। তবে কাজের জন্য। স্থায়ী বসবাসের জন্য নয়। কিন্তু সমস্যা হল, বর্তমান ফেডারাল বিধি অনুযায়ী, এই ভিসাধারক ব্যক্তির চাকরি চলে গেলে তঁাকে ৬০ দিনের মধ্যে সেদেশ ছেড়ে দিতে হবে। উপরন্তু তাঁরা কোনও সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাও পাবেন না। যাদিও তাঁদের বেতন থেকে এতদিন ধরে সামাজিক সুরক্ষা বাবদ টাকা কাটা হয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যে যদি অন্য কোনও চাকরি পেয়ে যান, তাহলে আর কোনও অসুবিধা নেই। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি ভারত ও চীনের মতো দেশগুলি থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার কর্মচারী নিয়োগের জন্য এটির উপর নির্ভর করে। ইতিমধ্যেই অনেক কর্মীর কাছে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার নোটিস চলে গিয়েছে। অনেককে আবার ছাড়িয়ে দেওয়াও হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩.‌৩ মিলিয়ন আমেরিকানও আছেন। আপাতত এই ভিসাধারকেরা হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে পিটিশন দিয়েছেন। যেখানে এখনও পর্যন্ত ২০ হাজার সই সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু সইয়ের ন্যূনতম সীমা এক লক্ষ। তবেই উত্তর আসবে ওপার থেকে। তাঁরা পিটিশনে লিখেছেন, তাঁদের যেন চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার পর ৬০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এতদিন পর্যন্ত তাঁরা সেদেশের জন্য খেটেছেন এবং আয়করও জমা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো অনেক দেশে ফিরে যাওয়ার অবস্থা নেই। সেসব দেশে লকডাউন চলছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top