আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অপরিসীম নৃসংশতার মধ্যে একটু মানবিকতা। একদিকে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকান শহর মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় এক শ্বেতাঙ্গ অফিসার নির্লিপ্তভাবে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের গলায় হঁাটুচাপা দিয়ে বসে রয়েছে। টানা আট মিনিট। যতক্ষণ না তাঁর শেষ নিঃশ্বাসটুকু বেরিয়ে না যায়। ‘‌আমি শ্বাস নিতে পারছি না’‌ জর্জ বারবার অফিসারকে বলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কে শুনবে তাঁর কথা। সে যে কালো। সাদা চামড়ার মানুষের যেন কালোদের হত্যা করার অধিকার জন্মগত। শুধু তাই না, পাশে দাঁড়িয়েছিল আরও তিনজন অফিসার। যেন মজা নিচ্ছিল তারাও। কিন্তু যখন একইদিনে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছবি দেখা যায়, একটু যেন শান্তি পায় অবশিষ্ট মানবজাত।
অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে আমেরিকা। ভিডিওটা পুরোটা দেখতে পারেনি অনেকেই। ক্ষোভে আগুনে পুড়ে গিয়েছে যেন। কেবল চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু এ’‌টুকু শাস্তি বরাদ্দ এই অমানবিক পাপের?‌ এরপরে কীভাবে বাড়িতে বসে থাকবে মানুষ?‌ চলুক লকডাউন। পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর ক্ষোভে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে শ’‌য়ে শ’‌য়ে মানুষ। এরই মাঝে বিরোধীদের বিদ্রোহের আগুন এসে পড়ল ভারতীয় রেস্টুরেন্টের ওপর। আগুন লাগানো হল অনেক বিল্ডিংয়ে। তাতে বোদ পড়ল না ‘‌গান্ধী মহল’‌ রেস্টুরেন্টও। মালিক বাংলাদেশি। এরপর কী হওয়া উচিত?‌ বিক্ষোভকারীদের ওপর রাগে ফেটে পড়বেন মালিক। তাই তো দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু না, সবার ভুল ভেঙে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন মালিকের মেয়ে। হাফসা। নিজেদের রেস্টুরেন্টের শোক ভুলে বাবা–মেয়ে দু’‌জনেই চেঁচিয়ে উঠল এই অন্যআয়ের বিরুদ্ধে। ‘‌জ্বলতে দাও রেস্টুরেন্ট। যা ঘটেছে, তার বিচার চাই। ওই পুলিশ অফিসারদের জেলে দাও।’‌ হাফসার বাবা টিভিতে খবর দেখতে দেখতে বলে উঠেছিলেন। তারপরেই হাফসা বাবার এ’‌কটা লিখে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘‌হ্যাঁ ক্ষতি হয়েছে ‌গান্ধী মহলের। তা আবার পূরণও করা যাবে। সব আবার আগের মতো হয়ে যাবে। অনেক প্রতিবেশী এগিয়ে এসেছিলেন আগুন নেভানোর জন্য। আমি হাফসা, রুহেলের (‌গান্ধী মহলের মলিক)‌ মেয়ে। বাবার পাশে বসে আমি টিভিতে খবরটা দেখছিলাম। বাবা বলে উঠলেন, ‘‌জ্বলতে দাও রেস্টুরেন্ট। যা ঘটেছে, তার বিচার চাই। ওই পুলিশ অফিসারদের জেলে দাও।’ গান্ধী মহলে আগুন লেগেছে। কিন্তু এই আগুন আমাদের জাতিকে বাঁচাবে। সবাই শান্তি পাক।‌’‌ নীচে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা, ‘‌জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর চাই’‌ এবং বিএলএম (কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ওপর হয়ে চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন‌)।‌ তাঁদের এই বক্তব্যে মানুষ অভিভূত। ‘‌গো ফান্ড মি’‌ নামক একটি তহবিল খোলা হয়েছে তাঁদের রেস্চুরেন্টের জন্য। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক টাকাও দিয়েছে মানুষ। কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছেন।  
এদিন অভিযুক্ত অফিসার ডেরেক শভিনের বিরুদ্ধে থার্ড–ডিগ্রি হত্যা এবং খুনের দায়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সঙ্গে তিন অফিসারকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top