তরুণ চক্রবর্তী: অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভারত ভেঙে গঠিত হয় পাকিস্তান। ভারতের পশ্চিম দিকে পাকিস্তান। আবার পূর্ব দিকেও পাকিস্তান। পশ্চিমে উর্দু হলেও পূর্বের ভাষা ছিল বাংলা। তাই প্রথম থেকেই পূ্র্ব পাকিস্তানের মানুষ ছিলেন পাকিস্তানের বিরোধী। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হলেও পূর্ব পাকিস্তানের ওপর ইসলামাবাদের শোষণ ও শাসন চলতে থাকে। বাংলাভাষী মানুষদের ওপর পাকিস্তান চাপিয়ে দিতে চায় উর্দুকে। ১৯৪৮ সালে উর্দু চাপানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে। ২৩ ফেব্রুয়ারি বীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রতিবাদ। গোটা পূর্ববঙ্গ নিজেদের মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় গর্জে ওঠে। ধর্ম নয়, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন শুরু হয় সর্বত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সেই আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ছিল বিশাল জমায়েত। ছাত্ররা উদ্যোগী হলেও সাধারণ মানুষও সেই আন্দোলনে শামিল হন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার দিতে হবে। সরকারি কাজে ব্যবহার করতে হবে বাংলাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা পড়ার অধিকার চাই। মাতৃভাষার অসম্মান বরদাস্ত করা হবে না। ঔপনিবেশিক ভাষা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। এই ছিল সেদিনের আন্দোলনের মূল দাবি। পাক সরকারের চোখরাঙানিকে ভয় না পেয়ে বাঙালি সেদিন গর্জে উঠেছিল। সহ্য হয়নি পাক সরকারের। নেমে আসে নির্মম অত্যাচার। পাকিস্তানি নিরাপত্তারক্ষীদের গর্জে ওঠে বন্দুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পাক–‌গুলিতে লুটিয়ে পড়েন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর। অগণিত মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। ভাষা শহিদদের রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাভাষী পূর্ব পাকিস্তানে। পরবর্তীতে আরও তীব্র হয় আন্দোলন। সেই বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, মহান মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আর ভারতীয় সেনাদের আন্তরিক সহযোগিতায় পাক–‌হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে জন্ম নেয় দুনিয়ার প্রথম বাংলাভাষী রাষ্ট্র। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। 
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি বিশেষ গর্বের দিন। বাঙালির খুনে রাঙা একুশকে ঘিরে প্রতি বছরই ভাষা শহিদদের স্মরণ করে মাতৃভাষার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার শপথ নেন বাঙালিরা। তবে একুশ এখন আর শুধু বাংলা বা বাঙালির নয়, একুশ এখন সর্বজনীন। ২০০০ সাল থেকে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা মহঃ রফিকুল ইসলাম প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে চিঠি লিখে দাবি করেছিলেন দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করার। তাঁর যুক্তি ছিল, দুনিয়ার বহু মাতৃভাষাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঔপনিবেশিকতার শিকার হচ্ছে বহু মাতৃভাষা। একুশের চেতনায় সবার মাতৃভাষাকে রক্ষা হোক। দিনটিকে পালন করা হোক সব্বার মাতৃভাষা রক্ষার দিবস হিসাবে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো সিদ্ধান্ত নেয় দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালনের। তারপর থেকে প্রতি বছর গোটা দুনিয়াতেই দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। 
একুশ আজ আর শুধু বাঙালি বা বাংলার চেতনার কেন্দ্রবিন্দু নয়, একুশ এখন প্রকৃত অর্থেই সর্বজনীন। গোটা দুনিয়ার সমস্ত মানুষের মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয় ৫২–‌র ভাষা আন্দোলনে সালাম–‌জব্বরদের আত্মত্যাগের কথা। পদ্মা–‌মেঘনা পাড়ের ভাষা আন্দোলন গঙ্গা–‌ভাগীরথীর তীরেও আজও সমানভাবে সমাদৃত। কলকাতাতেও তাই একুশকে কেন্দ্র করে মাতৃভাষা চর্চার হাজারও আয়োজন চোখে পড়ে। একুশের চেতনায় সমৃদ্ধ গোটা দুনিয়াই নিজেদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ব্রতী। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মাধ্যমে দুনিয়ার সমস্ত ভাষাভাষী মানুষকেই নিজেদের মাতৃভাষার বিকাশ ও অধিকার রক্ষার লড়াইকে সুদৃঢ় করছে।   
বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা–‌সহ গোটা পূর্ব পাকিস্তানেই শহিদদের স্মরণ করা হত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জন্ম নিতেই রাষ্ট্রীয়স্তরে পালিত হয় দিনটি। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গড়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সময় রাত ১১টা ৩১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে) দেশ ও জাতির হয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে সারা রাত ধরে চলে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও শামিল হন সেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে। লাখো মানুষ গেয়ে ওঠেন সেই অমর সঙ্গীত, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...!’
না, বাংলাদেশের মানুষ ভুলতে পারেননি। তাই রাতভর তাঁরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে হাজির হন শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে। শুধু ২০ ফেব্রুয়ারি রাতেই বা কেন, গোটা ফেব্রুয়ারি মাসটাই তো তাঁরা পালন করেন মাতৃভাষার বিকাশে। বাংলাদেশের জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই এবার আলাদা উন্মাদনা একুশকে ঘিরে। বাংলাদেশের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আধুনিক বাংলার রূপকার মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই। প্রতি বছরের মতো সেদিনই শুরু হয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক একুশে বইমেলা। মাতৃভাষার বিকাশ ও বাঙালিকে জাতি হিসাবে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে তিনি নিজের প্রচেষ্টার কথা শোনান। বাস্তবেও ভারতের বন্ধু দেশ বাংলাদেশ বিভিন্ন দিক থেকে হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। গোটা দুনিয়া তারিফ করছে বাংলাভাষী রাষ্ট্রটির সার্বিক বিকাশে।
একুশে বইমেলা এবং ঢাকার অন্যান্য অনুষ্ঠান এখন কলকাতার বাঙালিদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতি বছরের মতো এবারও বহু মানুষ ভারতে মৈত্রী দূত হিসাবে পৌঁছে গিয়েছেন ঢাকায়। তাঁরা প্রস্তুত শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে। শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দু’‌দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা নেন উভয় দেশের সাধারণ মানুষ। মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের ব্যবস্থা করে চলেছেন উভয় দেশের কূটনৈতিকরা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মিলনও সম্পর্ক উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেয়। একুশকে ঘিরে এপার বাংলার পর্যটকদের জন্য ওপার বাংলায় থাকছে বাড়তি আকর্ষণ। সঙ্গে অবশ্যই মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতার প্রাথমিক পাঠও বাঙালির অবচেতনে বপন করার বিষয়ে বড় ভূমিকা নেয় একুশের চেতনা।  
একুশ নিয়ে নানা অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে বাংলাদেশ। দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে উন্নত দেশগুলিতেও চলছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন। একুশে ফেব্রুয়ারি বহু আগে থেকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন। গোটা দেশ মেতে ওঠে শহিদ স্মরণে। ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ায় বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে বাঙালির মননে। এরজন্য রফিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অসামরিক সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করেন রফিকুল ইসলামকে। প্রতি বছরই বিশেষ অবদানের জন্য দেওয়া হয় একুশে পদক। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনটি পালিত হয় মহাধুমধাম করে। 
একুশ আসলে অসাম্প্রদয়িকতার প্রতীক। মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নাম একুশ। তাই তো মুসলিম প্রধান হয়েও সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন মেনে নেননি। মায়ের ভাষার ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। পাকিস্তানের গোলাবারুদও তাঁদের দমাতে পারেনি। ছিনিয়ে এনেছিলেন মায়ের ভাষার সম্মান। বন্দুকের নলও মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছিল সালাম–‌জব্বরদের সামনে। উর্দু নয়, বাংলাকেই আগলে ধরে তাঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন পাক–‌বন্দুকের সামনে। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আগলে ধরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামি লিগ। সেই লড়াইয়ে বড় হাতিয়ার একুশের চেতনা। তাই ৫২–‌র ভাষা আন্দোলন, বাঙালির সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক।
ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু 
মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েও বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ভোলার নয়। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন সেই সংগ্রামে। পাকিস্তান আইনসভার সদস্য হিসেবে তুলে ধরেন মাতৃভাষার প্রয়োজনীয়তার কথা। আবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুব লিগ গঠনের সময়ই তিনি বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসাবে তুলে ধরার প্রস্তাব দেন। ছাত্র নেতা হিসাবে সেদিন মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচনের ভার দেশবাসীর ওপরই ছেড়ে দেওয়ারও দাবি তুলেছিলেন। তমদ্দুন মজলিসের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত কার্যক্রমেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলেও নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল। এই হরতালে শেখ সাহেব নেতৃত্ব প্রদান করে গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ভাষা আন্দোলনকে সামনে রেখে এক সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য কারামুক্ত নেতা শেখ মুজিবুর। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় শেখ সাহেব জেলে ছিলেন। জেলে বসেও নিয়মিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালনে সব আন্দোলন, মিছিল এবং নেতৃত্বের পুরোভাগে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৬ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আইন পরিষদের অধিবেশনে তিনি সংসদের দৈনন্দিন কার্যসূচি বাংলা ভাষায় মুদ্রণ করার দাবি জানান। ১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন আওয়ামি লিগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা একাডেমিতে একটি সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আমি ঘোষণা করছি, আমার দল ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই সকল সরকারি অফিস আদালত ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা চালু করবে।’ ১৯৭২ সালের সংবিধানে তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান অফিসের কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রথম সরকারি নির্দেশ জারি করেন।
২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে সঠিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের প্রথমেই শ্রদ্ধা জানাই মহান ভাষা আন্দোলনের সেই সকল শহিদকে, যাঁরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের মা বলে ডাকার অধিকার দিয়ে গেছে। শহিদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিকুরসহ আমাদের শহিদ, যাঁদের মহাত্যাগের বিনিময়ে আজকে বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। আমি শ্রদ্ধা জানাই আমাদের মহান নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি; যিনি বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং যাঁর আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি, স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ পেয়েছি। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, আমাদের জাতীয় চার নেতা এবং ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ মা–‌বোনকে।’ 
এরপরই তিনি স্মরণ করেন তাঁর বাবার ১৯৭১ সালে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য। ভাষা আন্দোলন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়ন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহর ১২.০১ মিনিটে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’ জাতির পিতার এই মহামূল্যবান বক্তব্য থেকে এসে যায় যে আমাদের ভাষা আন্দোলন আমাদের পথ দেখিয়েছিল আমাদের জাতিসত্তা প্রকাশের সংগ্রামের।’
বাংলাদেশ গঠনের পিছনে ভাষা আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর অবদান আজ গোটা বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top