আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এবার সরাসরি চীনের দিকে আঙুল তুলল আমেরিকা। আর এই আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগাম বিপদ সম্পর্কে চীন সতর্ক করলে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। বেজিংকে সরাসরি এই ভাষাতেই বিঁধলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী তিনি এই বিষয়ে সামান্য বিরক্ত বলেও মন্তব্য করেছেন। আমেরিকার চিকিৎসকদের সেখানে পরিদর্শনে যেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দেশের যে তিনটি জায়গাকে সংক্রমণের আঁতুড়ঘর হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছে, সেগুলো হল নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওয়াশিংটন। তালিকার প্রথমেই আছে নিউ ইয়র্ক। সেখানে ১৫ হাজার নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৫৪১৮টি সংক্রমণ ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এখনও পর্যন্ত ১১৪ জন মারা গিয়েছেন। একদিনেই প্রাণ গেছে ৫৮ জনের। গোটা আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। মারা গিয়েছেন সাড়ে চারশো।
প্রেস বিবৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, করোনাভাইরাস সমস্যা জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ার আগে কোনও তথ্যই ছিল না মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে। তাঁর অভিযোগ, ‘‌চীনের কোনও উপকার হচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সে দেশের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এটুকুই বলব তারা আমাদের আগে জানাতে পারত।’‌ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও অভিযোগ, চীন করোনাভাইরাস সম্পর্কে খুব গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে। যেটা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি চীনের প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তবে হতাশার বিষয়, করোনভাইরাসের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করতে অসৎ পথে হেঁটেছে বেজিং। যা তাঁকে বিরক্ত করেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স হিসেব দিয়েছেন, এই মুহূর্তে আমেরিকায় করোনা–‌আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওয়াশিংটনে বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন তিনি। জরুরি চিকিৎসার বাড়তি বন্দোবস্ত যত দ্রুত সম্ভব করে ফেলার জন্য সরকারি বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ‘‌এটা কার্যত যুদ্ধই চলছে। সমগ্র জাতি আজ এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত উতরে যাবই।’‌ সাহস জুগিয়ে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

জনপ্রিয়

Back To Top