করোনাকালে কী খাবেন?‌ কী খাবেন না?‌ রইল ডায়েট চার্ট, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি 

রাখী চ্যাটার্জী:‌ চলছে প্রখর তাপপ্রবাহ সঙ্গে রোদে বেরোলে অবসন্নতা, মাথা ঘোরা অবশ্যম্ভাবী। হিট স্ট্রোক হওয়াটাও অবাক কিছু নয়, সঙ্গে করোনা ভাইরাসের চোখ রাঙানি। এই সবকিছুর মোকাবিলায় সঠিক পুষ্টিগুণ যুক্ত এবং রোগ প্রতিরোধক খাবার যা কিনা ইমিউনিটি বুস্টার নামে পরিচিত সেগুলি খাওয়া ভীষণভাবে দরকার। কিন্তু অনেকেই এই ধারণার বশবর্তী হয়ে বেশি করে খেয়ে ফেলছেন, যার ফলে দেখা যাচ্ছে বদহজম বা লুজ স্টুল-‌এর মতো সমস্যা। তাই এই সময় কিভাবে নিজেদের সুস্থ রাখবেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক।

• রোগমুক্ত রাখার প্রধান উপায় হল সুষম খাদ্য ও ব্যায়াম। এখন প্রতিদিন সুষম ও সহজপাচ্য খাবার খান। সেটি যেন সম্পূর্ণ রূপে সেদ্ধ হয়, কারণ কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ খাবারেই প্যাথোজেন বেশী বাসা বাঁধে

• দীর্ঘক্ষণের কাটা ফল ও স্যালাড কোনোভাবেই খাবেন না। ফল খাওয়ার আগে তা আপেল সিডার ভিনিগার বা উষ্ণ গরম জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন

• ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম যুক্ত খাবার যা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ কাটাতে জরুরি। এই জাতীয় খাবারে তালিকায় রাখতেই হবে কলা, তিল, সানফ্লাওয়ার সিড, কুমড়োর বীজ, ব্রকোলি, বেবি কর্ন  ইত্যাদি। তবে শরীরে পটাশিয়াম যাতে বেড়ে না যায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে

• লকডাউন-‌এর সময় বেশি পদ রান্না না করে একটাই এমন পদ রান্না করুন যার মধ্যে সমস্ত পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে। তাই মাছের ঝাল বা কষা মাংসের পরিবর্তে বেছে নিন সবজি দিয়ে মাছের ঝোল বা মাংসের স্টু। সারাদিনে প্রচুর জল খান

 • দিনে একটি ডাবের জল খেতে পারেন। পাশাপাশি দিনে ২ বার করে লেবুর জলও খেতে পারেন, জলে পুদিনা পাতা, শসা ইত্যাদি দিয়ে খেলে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পাবেন

• প্রতিদিন খাবারে টক দই রাখার চেষ্টা করুন, যাতে রয়েছে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, পেটের গোলযোগ রুখতে এর জুড়ি মেলা ভার

• সারাদিনে একবার হলেও উষ্ণ গরম জলে নুন দিয়ে গার্গল করুন। সকালে ঘুম  থেকে উঠে ইমিউনিটি বুস্টিং ওয়াটার খান যা আপনি বানাতে পারবেন আপনার রান্নাঘরের সহজলভ্য জিনিস দিয়েই। যেমন-‌ হলুদ ,গোলমরিচ, আদার রস, তুলসী পাতা ইত্যাদি দিয়ে

• যাদের জরুরি পরিষেবায় বাইরে যেতে হচ্ছে সারাদিনে একটা করে সাইট্রাস ফল খান, সঙ্গে খান প্রচুর জল ও স্যালাড

• খাদ্য তালিকায় রাখুন মাছের তেল, সিদ্ধ ডিম, চিকেন, গাজর, ক্যাপসিকাম, কুমড়ো। এসবে 
রয়েছে ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান অবশ্যই। গ্রিন টি-‌তে রয়েছে এপিজিয়ামকোটেচিন গ্যালেট নামক আন্টি অক্সিড্যান্ট যা রোগ প্রতিরোধক কোষগুলিকে উদ্দীপিত করে, এছাড়া এতে রয়েছে এমাইনো এসিড থিয়ানিন  ও।
 পেঁপেতে উপস্থিত প্যাপাইন, রসুনের এয়ালিসিন ,আদার জিঞ্জারল ইত্যাদি ফাইটোক্যামিকাল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

পাশাপাশি মেনে চলুন এই বিষয়গুলি-‌

• প্রত্যেকদিন যোগাসন বা সাধারণ কিছু ফ্রী হ্যান্ড ব্যায়াম করুন যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং মানসিক অবসাদ দূর করবে। যেমন-‌ সূর্য প্রণাম, বিভিন্ন প্রাণায়াম, ও মেডিটেশন

• এই সমও যতটা সম্ভব রাস্তায় না বেরোনোর চেষ্টা করুন। কয়েকদিনের জিনিস একবারে কিনে রাখুন। বাড়ির বয়স্কদের কোনওভাবেই বাইরে বেরোতে দেবেন না

• অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোম। বাড়তি সময় পাচ্ছেন নিজের জন্য। যে কাজগুলি এত দিনের ব্যস্ততায় করতে পারেননি যেমন ছবি আঁকা, গান গাওয়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে পুরনো ‘‌আমি’-‌‌কে খুঁজে বার করুন, সময় কাটান নিজের পরিবারের সঙ্গে যা এতদিন কাজের চাপে পারতেন না

করোনার এই পরিস্থিতিতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। অ্যালকোহলযুক্ত  স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। বাইরে বেরনোর সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।