সাগরিকা দত্তচৌধুরি: ক’‌দিন জঁাকিয়ে ঠান্ডা পড়ার পর পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে হঠাৎ যেন উধাও শীত। তবে ভোরের দিকে ঠান্ডা থাকলেও বাকি সময় গরমের অনুভূতি। তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনে বাড়ছে ভাইরাল ফিভার, সাধারণ জ্বর, সর্দি–কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথা। কেউ কেউ আবার ভুগছেন কনজাংটিভাইটিসে। দেখা দিচ্ছে ত্বকের সমস্যাও।
তাই এই সময়ে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রিজিওনাল ইনস্টিটিউ অফ অপথালমোলজির অধিকর্তা অধ্যাপক ডাঃ অসীমকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‌ঠান্ডায় অ্যাডিনো ভাইরাসের দাপটে কমবেশি সকলেরই সর্দি–কাশি, শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়। তার থেকে ভাইরাসঘটিত কনজাংটিভাইটিসও হতে পারে। মাঝে মাঝে চোখ দিয়ে জল পড়ে, চোখ লাল হয়, চোখের পাতা ফুলে যায়, কানের গোড়ায় যে লিম্ফ গ্রন্থিগুলো থাকে সেগুলি ফুলে ওঠে, চোখ চুলকোয় ও জ্বালা করে, আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হয়, জ্বর আসে। কনজাংটিভাইটিসের চিকিৎসা দ্রুত শুরু না করলে কর্নিয়ায় প্রভাব পড়ে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শীতে চোখের শুষ্কতার সমস্যা আরও বাড়ে।’
ইএনটি বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে ভিড় বাড়ছে টনসিলাইটিস, ফ্যারেনজাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভোগা রোগীদের। যতটা সম্ভব ধুলোবালি, গাড়ির ধোঁয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক ডাঃ রঞ্জন পাল জানিয়েছেন, প্রধানত দূষণ থেকে নাক দিয়ে জল গড়ানো, অত্যধিক হাঁচি, নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি থেকে কানে যন্ত্রণা, রাতে ঘুমোনোর সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাস্তাঘাটে বেরোলে মাস্ক পরে কিংবা পরিষ্কার রুমাল নাকে চাপা দিয়ে চলাফেরা করতে হবে। টনসিলে সংক্রমণ হলে গলা ফুলে যায়। গলার পিছনের নলিতে (‌ফ্যারিঙ্গস)‌ থাকে, সেখানে প্রদাহ হয়। ঠান্ডা লেগে এই দুটোই একসঙ্গে অনেকের হয়। সকালে ও রাতে ঈষদুষ্ণ গরম জল খাওয়া উচিত।’
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘‌এখনও যথেষ্ট ভাল ঠান্ডা আছে। সেই কারণে ঘরে ঘরে জ্বর–জ্বালায় অনেকেই ভুগছেন। এই সময়ে নিউমোনিয়া, সোয়াইন ফ্লু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এ ছাড়াও ঠান্ডা হাওয়ায় সর্দি–কাশি, ফুসফুস, শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়। বাড়ে শ্বাসকষ্ট। কারও কারও অ্যালার্জিক কাশি এত হচ্ছে যে সহজে কমছে না, স্টেরয়েড দিতে হচ্ছে। খুব ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে না গিয়ে একটু বেলায় রোদ উঠলে বেরোনো উচিত। বেশি করে জল না খেলে মুখের ভেতর অত্যধিক শুষ্ক হয়ে পড়ায় দাঁতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। শিশু ও বয়স্কদের বিভিন্ন সংক্রমণ ও ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কাজেই নিতে হবে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে।’‌
 
প্রয়োজনীয় পরামর্শ—
চোখে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ প্রয়োগ, জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া নিষেধ
বেশি করে জল, শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন
ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া 
প্রয়োজনে ঈষদুষ্ণ জলে নুন ফেলে গার্গল
ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে সঙ্গে সঙ্গে না খাওয়া 
মাথায় হিম পড়া থেকে বাঁচতে অবশ্যই টুপি, মাফলারের ব্যবহার
ঠান্ডা হাওয়া থেকে দূরে থাকতে মুখ–নাক–কান ভাল করে ঢেকে রাখা জরুরি
ঢিলেঢালা নয়, শরীর গরম রাখতে পরতে হবে মোটা, ভারী পোশাক
ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে ময়েসচারাইজারের ব্যবহার
শিশু ও বয়স্কদের জ্বর হলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ
জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ
কাকভোরে প্রাতর্ভ্রমণ নয়‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top