সাগরিকা দত্তচৌধুরি: পুজো শেষ। আশ্বিন প্রায় শেষের পথে। একটু একটু করে হিমেল হাওয়া শুরু হতেই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি–কাশির প্রকোপ। চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় বাড়ছে ভাইরাল ফিভার আক্রান্তের সংখ্যা। দিনের বেলা পাখা চললেও ভোর রাতে ঠান্ডা লাগছে। বিকেলের দিকেও গরম অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে চট করে মানাতে না পেরে জ্বরজ্বালায় কাবু হয় শরীর। আচমকা তাপমাত্রার তারতম্যে নানা রকম সংক্রমণ দেখা যায়। মূলত ভাইরাস‌ঘটিত সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এসি থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। অ্যাডিনো ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনো ভাইরাস প্রভৃতির প্রকোপে শরীর কাহিল হয়ে পড়ছে। 
এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, ‘‌ঘরে ঘরে এখন সত্যিই খুব জ্বর হচ্ছে। এখন যে–‌ধরনের জ্বরগুলি হচ্ছে, তার মধ্যে ৯০ শতাংশই ভাইরাল ফিভার। ঠান্ডা লেগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে। তবে ভাইরাল ফিভারের পাশাপাশি ডেঙ্গির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গি–আক্রান্তের ভর্তির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। জ্বর হলেই প্যারাসিটামল খাওয়া, বেশি–‌বেশি জলপান, শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। কারণ, জ্বরের সময় শরীরে ঘামের মাত্রা বাড়ে। জ্বর হলে শরীরে জলের মাত্রা কমে যায়। এই সময় হালকা সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত বিশ্রামে থাকাটাও দরকার। ঠান্ডা পড়ার সময় ফুসফুস ও শ্বাসনালির সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস বাড়ে।’‌
জ্বর হওয়া মাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গির পরীক্ষাও করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাল ফিভার, ডেঙ্গি জ্বরের পর স্ক্রাব টাইফাস কিছু কিছু পাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটিরিয়ারও প্রকোপ দেখা দিতে পারে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন,‌ ‘‌আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে শরীরকে একটু সময় দিতে লাগবে। যখনই শরীরের সঙ্গে আবহাওয়ার সমন্বয়ের অভাব হবে তখনই সর্দি–কাশি, নাক দিয়ে জল গড়ানো, গলা ব্যথা, ভাইরাল ফিভার বেশি করে হয়। সুতরাং এই সময়টায় নিজেকে ডিহাইড্রেট রাখা উচিত নয়। অ্যাজমা কিংবা হার্টের অসুখের ওষুধ যাঁরা খান, তাঁরা কোনও মতেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। অন্যের সর্দি, কাশি, হঁাচি থেকে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। এসি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন, কারণ এসি থেকেও বিভিন্ন রকম সংক্রমণ ছড়ায়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সোয়াইন ফ্লু–‌র বেশি প্রকোপ দেখা যায়। জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে দেখাবেন।’

জনপ্রিয়

Back To Top