সাগরিকা দত্তচৌধুরি: আবহাওয়ার তারতম্যে অনেকেই পড়েছেন ভাইরাল ফিভারের কবলে। চিকিৎসকদের চেম্বারে, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্তের। তার ওপর গলা ব্যথা, টনসিল ফোলা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়েও রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগেই হঠাৎ করে শীত অনেকটা কমে গেছিল। গরম জামাকাপড় অনেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে আবার ঠান্ডা পড়ায় শরীর সহজে মানিয়ে নিতে পারছে না। এই অবস্থায় ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অতিসাবধানতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাজা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‌তাপমাত্রার পারদ ওঠানামার ফলে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে, শ্বাসনালির সংক্রমণের আশঙ্কাও বেশি থাকে। এ ধরনের মরশুমে ভাইরাস, ব্যাকটিরিয়া অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এমনও দেখছি কারও শরীরে প্রথমে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিল, পরে আবার ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই সময়ে ড্রপলেট সংক্রমণ বেশি হয়। একজনের হাঁচি, কাশির থেকে অন্যজনের মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সর্দি–জ্বর হলে বাইরে না বেরিয়ে কিছুদিন বাড়িতে বিশ্রামে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।’‌ 
ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা ও বিশিষ্ট বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আলোকগোপাল ঘোষাল বলেন, ‘‌এই সময়ে ভোরবেলা ঘন কুয়াশার মধ্যে জগিং করা, হাঁটতে না যাওয়াই ভাল। আবহাওয়ার তারতম্যে রেসপিরেটরি ট্র‌্যাক্ট ইনফেকশন বেশি হয়। বাইরে বেরোলে ভাল করে নাক, মুখ, মাথা ঢেকে রাখা দরকার। শিশুরা ছাড়াও বয়স্ক এবং যাঁরা ক্রনিক ডিজিজে ভুগছেন তাঁদের সামান্য কারণেই বাড়াবাড়ি হচ্ছে। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানিতে যাঁরা ভুগছেন তাঁরা একটু ঠান্ডার কবলে পড়লেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আর যাঁরা আগে ভোগেননি তাঁরাও ভাইরাসজনিত শ্বাসনালির সংক্রমণের সমস্যায় পড়ছেন।’‌
 চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এখন নিউমোনিয়ার কবলে পড়ার বেশি ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিষেধক নেওয়া উচিত। ঠান্ডার জন্য জল খাওয়া কমালে চলবে না। মুখের ভিতর যাতে শুষ্ক না হয় তার জন্য বারে বারে জল খেতে হবে। কারও কারও কাশি সহজে কমছে না। টনসিলাইটিস, ফ্যারেনজাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিসও দেখা দিচ্ছে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top