আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনির্বাণ শিখা। মশালের পূতাগ্নি বর্ণনা করছে ভারতীয় সেনার জয়গাথা। পাকিস্তান সেনার হাত থেকে মুক্তিকামী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে উদ্ধার করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেওয়া। ১৯৭১–এর ১৬ ডিসেম্বর। ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সেনা। প্রতি বছরই ১৬ ডিসেম্বর দিনটিকে সেনাবাহিনীর 'বিজয় দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর সেই বীরত্বের ৫০ বছর। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই বছরটি পালনে দিল্লিতে গতবছর যে মশাল বিজয় দিবসে জ্বালিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দেশের নানাপ্রান্ত ঘুরে তা পৌঁছেছে সেনার পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তরে। গর্বের এই 'স্বর্ণিম বিজয় মশাল' ১৫ মার্চ সোমবার সকালে এল নিউ টাউনে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে (এসএনইউ)। নিয়ে এলেন সেনার তিন বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের হাত থেকে গ্রহণ করলেন এসএনইউ'র আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী। রাখা হল পোডিয়ামে। মিলিটারি ব্যান্ডে বেজে উঠল জাতীয় সঙ্গীত। শ্রদ্ধার সঙ্গে মশাল নিয়ে যাওয়া হল সেমিনার হলে।
'পশ্চিমবঙ্গে এই মশাল একমাত্র আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই এসেছে। আমরা গর্বিত।' বললেন এসএনইউ'র আচার্য। তিনি বলেন, বিজয় মশালকে দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যেতে ভারত সরকার ও সেনার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, বিশেষত আমাদের বীর সেনাদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে সচেতন করাটা খুবই প্রয়োজনীয়। এসএনইউ–এর পড়ুয়ারা এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন। 
উপাচার্য অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা আমাদের কাছে একটা গর্বের মুহূর্ত। মশাল একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই এসেছে। 
১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করে মেজর গৌরব লোহমি জানিয়েছেন, প্রতি বছরই ভারতীয় সেনা বিজয় দিবস পালন করেন। গৌরবের প্রতীক এই মশালের আগুন যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা স্মরণ করতে গিয়ে মেজর সঞ্জীব সিং বলেন, এই মশাল স্পর্শ করা মাত্রই আমার শরীরে শিহরণ বয়ে গেছে। এদিন ১৯৭১–এর যুদ্ধের ওপর ভারতীয় সেনার তৈরি করা আধঘণ্টার একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা গাইলেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। পরিবেশন করলেন দেশাত্মবোধক গান। সঞ্চালক বিপ্লব গাঙ্গুলির আহ্বানে সেনার পূর্বাঞ্চলের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকলকে ধন্যবাদ জানালেন এসএনইউ–এর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সুমন চ্যাটার্জি। মিলিটারি ব্যান্ডে বাজল জাতীয় সঙ্গীত। শেষ হল অনুষ্ঠান।

জনপ্রিয়

Back To Top