বিভাস ভট্টাচার্য: উত্তর থেকে দক্ষিণ— তুলসী চাষে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে জোর দেওয়া হচ্ছে আমলকী, বয়ড়া ও হরীতকীর মতো বনৌষধি চাষে। উৎসাহীদের এ জন্য দেওয়া হচ্ছে ভেষজ গাছের চারা। গাছগুলির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাধারণ জ্বর থেকে সর্দি, মাথাধরা এবং চোখের কয়েকটি অসুখে প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে তুলসীপাতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মফস্‌সল এবং গ্রামাঞ্চলে এই গাছ প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। শহরেও টবে এই গাছ লাগিয়ে রাখেন অনেকেই। যেখানে এই গাছ থাকে তার আশপাশে আগাছা হয় না। মশাবাহিত রোগের আক্রমণ ঠেকাতেও এই গাছের পাতাকে কাজে লাগানো হয়। অন্যদিকে পেটের রোগে এবং চুলের সমস্যার সমাধানে আমলকী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্য বাড়াতে এবং চামড়ার অন্যান্য সমস্যায় অ্যালোভেরার প্রয়োগ দীর্ঘ দিন ধরেই করে আসছেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা।
স্টেট মেডিসিনাল প্লান্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ নির্মল মাজি বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই জিনিসগুলির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তঁার নির্দেশেই এই চাষে জোর দেওয়া হয়েছে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তুলসী–সহ এই গাছগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সঙ্গে খুব অল্প দামেও এগুলি পাওয়া যায়। তুলসীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাকি গাছগুলির চাষেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অ্যালোভেরার চাষও করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জায়গায় এর চাষ হলেও উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া যেহেতু ঠান্ডা, সে কারণে সেখানে এগুলি বেশি করে চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে তুলসী ও অ্যালোভেরার চাষ। এর একটা বাজারমূল্যও আছে। বিদেশে এগুলির খুব চাহিদা। এছাড়া দেশের বাজারেও এর যথেষ্ট চাহিদা আছে।’
উত্তরবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে রোগ সারাতে ইতিমধ্যেই সেখানে তুলসী গাছের ব্যবহার যথেষ্টই বেড়েছে। এর চাষ এবং প্রয়োগ বাড়াতে সেখানকার এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ‘‌তুলসী গ্রাম প্রোজেক্ট’ শুরু করেন‌। আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য স্থানীয়রা যে সর্দিকাশিতে ভোগেন, তা থেকে রক্ষা করতে তুলসী পাতার প্রয়োগ করছেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা।
উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক গ্রামবাসী আছেন, যাঁরা রোগ সারাতে হাসপাতালে যাওয়ার চেয়ে বেশি নির্ভর করেন স্থানীয় হাতুড়ে এবং কখনও কখনও ঝাড়ফুঁকের ওপর। হাতুড়েদের হাতে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ফলে রোগ কখনও কখনও সেরে যাওয়ার বদলে আরও বেশি জটিল হয়ে পড়ে। কিন্তু তুলসীর সফল প্রয়োগে এখন অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। যার ফলে উত্তরবঙ্গে তুলসী চাষে উৎসাহও বেড়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top