আজকালের প্রতিবেদন: বছর দুই–‌‌তিন ধরে শ্বাসকষ্ট এবং বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যায় ভুগছিলেন ত্রিপুরার ২৩ বছরের এক তরুণী। বেশ কিছু পরীক্ষার পর দেখা যায় তাঁর শরীরে ভাসকুলার চ্যানেলগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডান করোনারি আর্টারি এবং ডান এট্রিয়ামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। হার্টের এই বিরল সমস্যার নাম অ্যাওর্টাক্যামেরাল ফিসচুলা। জন্মগত এই হার্টের অসুখে পরিশোধিত রক্ত সারা শরীরে না পৌঁছে হার্টের ডানদিকে অপরিশোধিত রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে শুরু হয় বিভিন্ন জটিলতা। এমনকি এতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে দরকার পড়ে বেশ কিছু জটিল অস্ত্রোপচারের। তবে এই তরুণীর সার্জারির পরিবর্তে প্রথমবার শুধুমাত্র লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করে হার্টের মধ্যে ক্যাথেটার বেসড আমব্রেলা ডিভাইস (‌অ্যামপ্লেটজার ভাসকুলার প্লাগ)‌ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন মেডিকার স্পেশাল হার্ট টিম। এই টিমে রয়েছেন ডাঃ কুণাল সরকার, অধ্যাপক ডাঃ রবীন চক্রবর্তী, ডাঃ সৌম্য পাত্র, ডাঃ সুমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং ডাঃ অরিন্দম পান্ডে।‌ চিকিৎসার পর এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে অন্যদের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন এই তরুণী। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আকাশছোঁয়া সাফল্যে জটিল কোনও অস্ত্রোপচার ছাড়াই ছোট্ট যন্ত্রেই হার্ট ফিরে পাচ্ছে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং এই যন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর মাত্র দু’‌‌দিনেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন রোগী। বলা বাহুল্য, ছোট্ট এই যন্ত্র হার্টের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।‌

ডাঃ রবীন চক্রবর্তীর সঙ্গে সেই মহিলা। 

জনপ্রিয়

Back To Top