আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভারতের দুই নামী নুন প্রস্তুতকারক সংস্থা। আর তাঁদের নুনেই কিনা মিলেছে পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইডের মতো মারাত্মক রাসায়নিক। এমনটাই জানা গিয়েছে একটি মার্কিন ল্যাবের প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে। বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করেছেন, গোধাম গ্রেন অ্যাণ্ড এএমপির চেয়ারম্যান শিব শঙ্কর গুপ্তা। 
রেস্তরাঁয় হোক কিংবা বাড়িতে, যেকোনও খাবারে নুন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটু কম–বেশি হলেও খাবার নষ্ট করে দিতে বাধ্য। আর এই নুনেই কি না রয়েছে পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইডের মতো বিষ!‌ আমেরিকার একটি ল্যাবে সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা যে নামী সংস্থার নুন রোজ খান, তাতে মারাত্মকভাবে কার্সিনোজেন, পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইডের মতো বিষাক্ত মারণ যৌগ রয়েছে। গুপ্তা বলেন, ‘‌আমেরিকান ওয়েস্ট অ্যানালিটিকাল ল্যাবরেটরি যে পরীক্ষা করেছে, তাতে বলা হচ্ছে সম্বর রিফাইনড নুনে এক কেজিতে ৪.৭১ মিলিগ্রাম, টাটা নুনে এক কেজিতে ১.৮৫ গ্রাম এবং টাটা সল্ট লাইটে এক কেজিতে ১.৯০ গ্রাম করে পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড রয়েছে।  যা দিন দিন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’‌  তিনি আরও বলেন, ‘‌দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সরকার এবং অসাধু নুন ব্যবসায়ীদের জন্য সাধারণ মানুষ মরছেন।  বিশুদ্ধ নুনের মোড়কের বিজ্ঞাপনের আড়ালে নুনে থাকা এই বিষাক্ত যৌগগুলো ছাড়পত্রও পাচ্ছে বাজারে। শুধু নুন কেন, যে কোনও খাবারের ক্ষেত্রেই এই পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড থাকা ঠিক না।  তাঁর মতে যেসব রাঘব বোয়ালরা নুন উৎপাদন শিল্পের সাথে যুক্ত, তারা অন্য শিল্প থেকে বর্জ্য হিসেবে বিপজ্জনক আয়োডিন এবং সায়ানাইডকে সেগুলোকে রিপ্যাকেজ করে প্যাকেটজাত বিশুদ্ধ নুন হিসেবে বাজারে বিক্রি করছে! আর এগুলো থেকে ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ, ওবেসিটি, কিডনির অসুখ ইত্যাদি নানা সমস্যা বেড়ে চলেছে।’‌ গুপ্তা আরও যোগ করেন, ‘‌স্বাধীন ভারতের ক্ষেত্রে যেসব স্ক্যাম বা দুর্নীতির কথা শোনা যায়, আমি বলব এই লবণ দুর্নীতি তার মধ্যে অন্যতম। টাকার কুমীররা প্রাকৃতিকভাবে যে জায়গাগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত নুন পাওয়া যেত, সেই জায়গাগুলোকে নষ্ট করছে।’‌ এদিকে, আরটিআই থেকে জানা গিয়েছে, কোনও নুনের কোম্পানিই ফুড সেফটি অ্যাণ্ড স্ট্যাণ্ডার্ডস অথরিটি অফ ইণ্ডিয়ার কাছে নুনের মান ঠিক করে পরীক্ষা করায় না।  এমনকি এ বিযয়ে কোনও লাইসেন্সের আবেদনও করা হয় না।  দেশের যে ল্যাবগুলোতে খাদ্যের গুণমান পরীক্ষা করা হয় সেগুলোর পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও তথৈবচ! তাই সেখানে নুনে থাকা সায়ানাইডের পরিমাণও তো পরিমাপ করা যায় না। তারপরেও বাজার থেকে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এই নুনই! ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top