আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কোভিড–১৯–এর থেকেও ১০ গুণ বেশি সংক্রামক একটি ভাইরাসের অস্তিত্বের সন্ধান দিলেন মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা। স্থানীয় সময় রবিবার মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক ঘোষণা করেছে ডি৬১৪জি নামক ওই ভাইরাসটি সার্স–কোভি–২ ভাইরাসের পরিবর্ত। ভারত থেকে যাওয়া এক রেস্তোরাঁ মালিকের শরীরে ওই ভাইরাস ধরা পড়েছিল, যখন তিনি ১৪ দিনের কোয়ারানটাইনে ছিলেন। তারপর ৪৫জনের মধ্যে তিনজনের শরীরে মিলেছে ডি৬১৪জি ভাইরাস।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইওরোপে প্রথম ডি৬১৪জি পরিবর্তনের প্রমাণ মিলেছিল। তারপর সার্স–কোভি–২–র প্রভাবশালী বিকল্প বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে এটি। একদল বিশেষজ্ঞের মতে, পরিবর্তনের ফলেই বিশ্বে ছড়াচ্ছে ভাইরাসটি। সার্স–কোভি–২ ভাইরাসই কোভিড–১৯ ভাইরাসের আসল নাম। আর ডি৬১৪জি হল সার্স–কোভি–২–র পরিবর্ত। ডি৬১৪জি প্রোটিনের মধ্যে থাকে। তার ফলে ভাইরাসের কাঁটাগুলি মানব শরীরের কোষ ভেঙে দেয়। এই পরবর্তন অ্যামাইনো অ্যাসিডের স্থান ৬১৪–কে ডি বা অ্যাসপারাটিক অ্যাসিড থেকে বদলে জি বা গ্লাইসিন করে দেয়। তাই এর নাম ডি৬১৪জি।
মহামারী সারা বিশ্বে থাবা বসানোর পর থেকে সার্স–কোভি–২–র অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ডি৬১৪জি পরিবর্তন সম্ভবত ইতালিতে দেখা গিয়েছিল। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী বি কর্বার বলছেন, আসল ভাইরাসের থেকে ডি৬১৪জি আরও বেশি ছড়াতে দেখা যাচ্ছে। তাই সার্স–কোভি–২–কে প্রায় হঠিয়ে দিচ্ছে ডি৬১৪জি। ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় এই ভাইরাসই এখন ছড়িয়েছে বলে নিজের সদ্য প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন কর্বার।
ডি৬১৪জি ভাইরাল স্পাইক প্রোটিনের উপর হলেও এটা রিসেপটর–বাইন্ডিং ডোমেন বা আরবিডি–কে বদলে দেয় না। আরবিডি এসিই২ রিসেপটরকে মানব কোষে বেঁধে রাখে। রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার এটাই মূল লক্ষ্য। ডি৬১৪জি স্পাইক প্রোটিনকে বদলে দিলেও আরবিডি ইমিউনোজেনিক অংশ একই রকম থাকে। তাই গবেষকরা মনে করছেন সার্স–কোভি–২ এবং ডি৬১৪জি–র জন্য সম্ভবত একটি প্রতিষেধকই কাজ করবে।                 ‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top