আজকালের প্রতিবেদন: বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ১২–১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের শারীরিক, মানসিক, ব্যবহার, কথাবার্তায়, আবেগে হরমোনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বুদ্ধির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক গঠনেও নানাবিধ পরিবর্তন আসে। বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, পুষ্টির ঘাটতি যেমন দেখা যায়, তেমনই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া, মোবাইলে আসক্তি, হতাশা, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, যৌন নির্যাতন–‌সহ একাধিক সমস্যা।  বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলির সমাধান নিয়ে সায়েন্স সিটিতে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করে অ্যাডভান্স হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশন। যেখানে শিক্ষক, বহু বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলেমেয়েরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভয় ও লজ্জা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা খোলামেলা আলোচনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অপব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা ড. শ্রেয়া চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌মোবাইল ফোনের ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তার জন্য আলাদা আইন প্রয়োগ করা দরকার। অপরিচিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব না করা, হোয়াটসঅ্যাপে সেলফি না পাঠানো, না জেনে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। ইন্টারনেটের অপব্যবহারে না জেনেই দুষ্কৃতীদের জালে ফেঁসে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে কী করণীয়, কোথায় লাগাম টানা উচিত, সেটা সন্তান ও অভিভাবক দু’‌পক্ষকেই বুঝতে হবে।‌ ফাউন্ডেশনের অন্যতম অধিকর্তা ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশ্যালিস্ট ডাঃ সৌরভ কোলে বলেন, ‘‌বয়ঃসন্ধিকালীন  ছেলেমেয়েদের মধ্যে নিজস্ব ভাবনা–‌চিন্তা ঠিকমতো কাজ করে না। এই সময়ে নিজেকে ভাল করে তোলা যেমন সহজ, তেমনই খারাপ হতেও বেশি সময় লাগে না। ‌এই সময়ে অতিরিক্ত সচেতন হওয়া জরুরি অভিভাবকদের।’‌ 
ডাঃ পার্থ সরকার, ডাঃ উদয় চৌধুরি জানান এই সময়কাল থেকেই কোনটা উচিত আর অনুচিত সেই বিষয়ে বোঝাতে হবে সন্তানদের। কি ধরনের পরিবর্তন নজরে পড়লে বাবা–মায়েরা সতর্ক হবেন, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কীভাবে মিশতে হবে প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের জেনারেল মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অপূর্ব মুখার্জি, এসএসকেএমের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ শুভঙ্কর চৌধুরি, সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ রাজর্ষি রায় ব্যানার্জি, ডাঃ হিরণ্ময় সাহা–‌সহ অন্য বিশিষ্টরা।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top