আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ইনস্ট্যান্ট নুডল এবং কফির যুগে আমাদের সকলেরই বেঁচে থাকাটাই যেন আশ্চর্য। এই কাল রাতে একটা মানুষ দিব্যি হাসলেন, গল্প করলেন, হঠাৎ সকালে শুনলাম মাঝরাতে তিনি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেছেন। ‘‌ডেথ সার্টিফিকেট’‌-‌এ লেখা হয়তো ‘‌হার্ট অ্যাটাক’‌। যে হৃদয়ে সারাটা জীবন ভালবাসার মানুষকে যত্নে সাজিয়ে রাখার কথা ভাবি আমরা, সেই হৃদয়ের যত্ন তো আমাদেরই নিতে হবে। সম্প্রতি ‘‌দ্য ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথ’–‌ জার্নালের সমীক্ষা বলছে ভারতের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হৃদরোগ। আর এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই ‘‌সস্তা সুন্দর ইয়ানা ডায়েট ক্লিনিক’‌–এর ‘‌ডায়েটিশিয়ান’‌, শম্পা ব্যানার্জি বেশ কিছু সমাধান দিচ্ছেন, এই সমস্যা থেকে বাঁচতে। বলছেন, কিছু খাবার নিজেদের জীবনে আনতে হবে। আর কিছু এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলেই মুশকিল আসান। ‘‌সঠিক খাবার’‌– এর কথাটা মাথায় রাখলেই হৃদয়ের যত্ন নেওয়া অনেকটাই সম্ভব । 
জেনে নিন কী সেই সঠিক খাবারগুলো.‌.‌.‌
১। সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ শুরু করার আগে, সকালটা শুরু করার সময়ে পারলে জলে ভেজানো ৬ থেকে ৭ টা আমন্ড খেয়ে নিন। খালি পেটে এই জলে ভেজা আমন্ডগুলোর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার হৃদয়ের যত্ন নেবে। 
২। রসুনের তীব্র গন্ধ যতই খারাপ লাগুক আপনার, খালি পেটে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নেবেন। আমাদের শরীরের যে খারাপ কোলেস্টেরল থাকে, সেগুলোকে সহজেই বাগে আনতে পারে এই রসুনই। ফলে হৃদয়ে তার প্রভাবও পড়ে। 
৩। অনেকেই নিরামিষাশী হন, তাঁরা সকালে কী জলখাবার খাচ্ছেন সেটা অনেকটাই তাঁর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। ফ্ল্যাক্সিড অনেকেই বাজারে কিনতে পারবেন। এতে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আমাদের অনেক সময়েই গলা ও বুক জ্বালা করে। বারবার ঢেকুর ওঠে, গলা জ্বালাও করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় কিন্তু এই ফ্ল্যাক্সিডের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডই। তাই আপনার হৃদয়ও থাকে সুস্থ। 
৪। বেশ কিছু মাছ আছে, যেগুলো ওমেগা থ্রির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। স্যামন, ম্যাকরেল–এ এই ওমেগা থ্রি অনেকটাই থাকে। পারলে শপিংমল গুলো থেকে কিনে আনুন এই জাতীয় মাছ, আর নিজের মেনুতে সেগুলো অবশ্যই রাখার চেষ্টা করুন।
৫। হলুদেরও আছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ, অর্থাৎ শরীরের জ্বালা পোড়া কমাতে কাজে দেয় এই মশলা। কাজেই রান্নায় বা সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খেতেই পারেন আপনি। হৃদয়ের সুস্থতার জন্য এটুকুতো আপনি করতেই পারেন। 
৬। কোলেস্টরল লেভেল অনেকেরই বেড়ে যায়, তাঁরা সারাদিনের যে কোনও একটা সময়ে অন্তত ওটস খেতেই পারেন। এতে থাকা হাই ফাইবার অবশ্যই আপনার কোলেস্টরলকে বশে রাখবে। আমরা সকলেই জানি কোলেস্টেরল আর হৃদয়ের সম্পর্কের কথা। তাই ওটস যতই মুখে ভাল না লাগুক, একটু কষ্ট করে হলেও খেয়ে নিন। 
৭। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন যাঁরা, তাঁদেরও হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু রোজ যদি একটা করে কলা খেয়ে ফেলেন, তাহলেই তো মুশকিল আসান অনেকটা। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 
৮। যে কোনও সবুজ শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন k। ‌এই ভিটামিনও আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 
৯। সারাদিনে অন্তত নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিয়ে একটু হাঁটুন, সাঁতার কাটুন বা সিঁড়িতে ওঠানামা করুন। কারণ একটু আধটু শরীরচর্চা না করলে মুশকিল। এই শরীরচর্চায় আপনার মন তো ভাল থাকবেই, সাথে হৃদয়ও বেশ সমস্যামুক্ত থাকবে। 
১০। সারাদিন ছুটছেন তো?‌ কার জন্য?‌ নিজের জন্য?‌ বিশ্বাস করুন, যে একমুখী চিন্তায় আপনি ভেবে চলেছেন সহকর্মী এগিয়ে গেল চারকদম, আপনি পিছিয়ে পড়লেন– ইত্যাদি। কোনও লাভ নেই এতে। ইঁদুর দৌড়ের যুগে যে জীবন যাপন আপনি করছেন, তাতে আপনারই শরীরটা খারাপ হচ্ছে। হৃদয়ের সমস্যা বাড়ছে। তার চেয়ে বরং একটু বই পড়ুন, গান শুনুন, একটু বেরিয়েও আসতে পারেন। এতে সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়। 
অতএব ‘‌ইয়ানা ডায়েট ক্লিনিক’‌–এর ‘‌ডায়েটিশিয়ান’‌ শম্পা ব্যানার্জির এই সমাধানের পথটুকু ধরে আপনি হাঁটবেন নিশ্চয় কাল থেকেই। আর হৃদয়ের যত্নে বাকিদের থেকে এগিয়েই থাকবেন কিছুটা। 
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top