সাগরিকা দত্তচৌধুরি: নির্বাচন শুরু হয়ে গেছে। বাকি দফার ভোটপ্রার্থীরা গ্রীষ্মের চড়া রোদে শেষ মূহূর্তের প্রচার সারতে ব্যস্ত। গরমে সানস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি চোখের সমস্যাও দেখা যায়। বাকি দফার ভোটপর্বে গরম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনী প্রার্থী হোন কিংবা ভোটার, গরমে চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে চোখে অ্যালার্জি, কনজাংটিভাইটিস, নেত্রপল্লবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে স্টাই নামে এক ধরনের রোগ হয়। এতে চোখের পাতার ঠিক নীচে কিংবা ভেতরের দিকে লাল রঙের ফুসকুড়ি মতো হয়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া, ঘুম ও শরীরচর্চার পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সচেতন হওয়া জরুরি।  
দিশা আই হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ ঈপ্সিতা বসু জানিয়েছেন, ‘‌ঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চোখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে গ্রীষ্মে চোখের যে সমস্যাগুলো হয়, সেগুলো থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব। তবে সানগ্লাস পরার সময় সতর্ক থাকতে হবে। অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধমূলক সানগ্লাস ব্যবহার করলে চোখে অ্যালার্জির সংক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব। প্রচারের মাঝে যদি কেউ সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন, তাহলে অতি অবশ্যই সুইমিং গগলস পড়ুন। নইলে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠার আশঙ্কা থাকে।’ অপর এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ জয়িতা দাস বলেন, ‘কোনওমতেই অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ ঘষবেন ‌না। প্রচারের সময় বাইরে জনবহুল স্থানে ঘর্মাক্ত অবস্থায় ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে হয়। ওই হাত চোখে লাগলে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল। হাতে লাগা ময়লা থেকে সংক্রমণ প্রতিরোধে বাড়িতে অথবা পার্টি অফিসে পৌঁছে হাত–মুখ ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। খুব জোরে চোখে জলের ঝাপটা দেওয়া উচিত নয়, কারণ চোখের মধ্যে সুরক্ষিত যে জল স্তর থাকে, তা ধুয়ে যায়। চোখের কোনও প্রসাধনী কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। এ ছাড়াও তোয়ালে, বালিশ, সাবান প্রভৃতি নিজের আলাদা থাকা উচিত। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ও রোদ থেকে বাঁচতে সঙ্গে রুমাল, টুপি, ছাতা, সানগ্লাস, নুন–লেবু মিশ্রিত জল রাখার চেষ্টা করুন।’

জনপ্রিয়

Back To Top