নীলাঞ্জনা সান্যাল: লকডাউন শুরুর আগে ক্লাস হয়েছে মাত্র আড়াই মাস। তাই ফেব্রুয়ারির বদলে জুনের প্রথম সপ্তাহে হোক মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক শেষের ১০ দিন পর থেকে শুরু হোক উচ্চমাধ্যমিক। মাধ্যমিকের সিলেবাস কাটছাঁট না করে, প্রশ্ন নিয়ে বলা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় সামেটিভ থেকে ৮০ শতাংশ এবং তৃতীয় সামেটিভ থেকে ২০ শতাংশ প্রশ্ন করা হোক। তার আগে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা ডিসেম্বর থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হোক স্কুল। আগামী বছর যারা মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, তাদের ক্লাস আগে শুরু হোক। এমনই প্রস্তাব জমা পড়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তরে। 
প্রসঙ্গত, সোমবারই স্কুল–সহ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন শুরু, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। দপ্তর সূত্রে খবর, যে প্রস্তাব এসেছে তা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। ‌নবম থেকে দ্বাদশের পড়ুয়াদেরই আগে স্কুলে আনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে স্কুল চলবে, কীভাবে স্কুল–চত্বর জীবাণুমুক্ত করা হবে তা নিয়ে গাইডলাইনও তৈরি করা হয়েছে। ‌ 
দপ্তর সূত্রে খবর, যে প্রস্তাব জমা পড়েছে তাতে নভেম্বরের শেষ থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্লাস শুরুর কথা বলা হয়েছে। লকডাউন শুরুর আগে আগামী বছর যারা মাধ্যমিক দেবে তাদের মাত্র আড়াই মাস ক্লাস হয়েছে। এই আড়াই মাসে প্রথম সামেটিভের সিলেবাস পড়ানো হলেও পরীক্ষা হয়নি। তাই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্কুল খোলার পর আগামী বছরের মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস হোক। এই সময় দ্বিতীয় সামেটিভের সিলেবাস পড়ানো হোক এবং তার সঙ্গে তৃতীয় সামেটিভ। প্রস্তাবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে টেস্ট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন স্কুলে এসে প্রথাগত পঠনপাঠনের সঙ্গে এই পড়ুয়াদের কোনও সম্পর্ক নেই, তাই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার জন্য তারা কতটা প্রস্তুত তা যাচাই করতেই টেস্ট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর ফর্ম পূরণ এবং মে মাসে অ্যাডমিট কার্ড বিলি। এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে ফল প্রকাশ। সেপ্টেম্বরে একাদশে ভর্তি। ফের মাধ্যমিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পরের বছরগুলিতে একমাস করে পিছিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। প্রস্তাবে মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম কাটছাঁটের কথা সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, যেহেতু প্রথম সামেটিভের সিলেবাস পড়ানো হয়ে গেছে এবং স্কুল খুললে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সামেটিভের সিলেবাস পড়ানো হবে, তাই সিলেবাস না কমালেও হবে। সেক্ষেত্রে মাধ্যমিকের ৮০ শতাংশ প্রশ্ন প্রথম ও দ্বিতীয় সামেটিভ এবং ২০ শতাংশ প্রশ্ন তৃতীয় সামেটিভের সিলেবাস থেকে করা হোক। এতে সব ধরনের মেধার পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেই সুবিচার করা হবে। 

উচ্চমাধ্যমিক নিয়ে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক শেষের ১০ দিন পর উচ্চমাধ্যমিক শুরু হবে। সেক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক হবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে। আগামী বছর যারা উচ্চমাধ্যমিক দেবে তাদের এখনও পর্যন্ত কোনও ক্লাসই হয়নি। ফলে এই পড়ুয়ারা যাতে ক্লাস করতে পারে, প্র‌্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে পারে, তার সময় দিতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেকেই ভিন রাজ্য বা দেশে পড়তে যায়। ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়। এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই পাঠ্যক্রম শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবার ইউজিসি ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষ ৩০ আগস্ট থেকে শুরু কথা বলেছে। এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা প্রস্তাবে বলা হয়েছে। 
প্রস্তাবে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক নিয়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের পড়ুয়াদের এখনই স্কুলে আসার দরকার নেই। যেহেতু মার্চ মাস থেকে এই খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে স্কুলের কোনও সম্পর্ক নেই, তাই স্কুলে আসার অভ্যেসটা ফের তৈরি করতে এদের সপ্তাহে একদিন বা দু’‌দিন ভাগাভাগি করে স্কুলে আনা যেতে পারে। উচ্চপ্রাথমিকের পড়ুয়াদেরও প্রতিদিন স্কুলে আসার দরকার নেই। একেক দিন একেকটি ক্লাসের পড়ুয়ারা স্কুলে আসবে। অর্থাৎ কোনও দিন ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়ারা এল বা কোনও দিন পঞ্চম এবং সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়ারা এল। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top