আজকালের প্রতিবেদন: কলকাতায় ফের অঙ্গদানের নজির। একইসঙ্গে হার্ট, লিভার, কিডনি প্রতিস্থাপন করে পূর্ব ভারতের মধ্যে আবার নজির গড়ল এসএসকেএম হাসপাতাল। এসএসকেএমে দ্বিতীয়বার হার্ট প্রতিস্থাপন হল। ব্রেন ডেথ হওয়া ৪২ বছরের এক ব্যক্তির হার্ট, দু‌টি কিডনি, লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। কর্নিয়া ও ত্বকও দান করা হয়। প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও গ্রহীতাদের শরীর নতুন অঙ্গ ঠিকমতো গ্রহণ করল কিনা তা দিন কয়েক পর বোঝা যাবে বলে জানান চিকিৎসকরা।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে অঙ্গদানের বিষয়ে দেখতেন, শুনতেন। তারপর থেকে নিজের মধ্যে অঙ্গদানের ইচ্ছে তৈরি হয় সন্তোষপুরের বাসিন্দা পেশায় হস্তশিল্পী অপ্রতিম ঘোষের। সেরিব্রাল স্ট্রোক হওয়ায় রবিবার তাঁকে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার পরেও শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছিল না। আইসিইউ–‌এ ভেন্টিলেশনে ছিলেন। কোমায় চলে যান। ক্রমশ মস্তিষ্কের মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকেন। একথা চিকিৎসকরা রোগীর পরিবারকে জানালে তাঁরা অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার রোগীর ব্রেনডেথ ঘোষণা করা হয়। 
অঙ্গদাতার স্ত্রী ঈপ্সিতা ঘোষ জানান, তিনি নিজেই বলতেন তাঁর কিছু হলে অঙ্গগুলো যেন দান করা হয়। কোনও মুমূর্ষু রোগীর কাজে আসুক সেটাই তাঁর ইচ্ছে। সেই ইচ্ছেকেই স্বীকৃতি দিতে তিনি সম্মতি দেন। পিয়ারলেসের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ সিঞ্চন ভট্টাচার্য জানান, পরিবারের সম্মতি মেলার পরই রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের টিম মঙ্গলবার সকালে এসে অঙ্গদানের প্রক্রিয়া শুরু করে অর্থাৎ অঙ্গগুলি সংগ্রহের কাজ শুরু করে। গ্রিন করিডরে এক এক করে অঙ্গগুলি নিয়ে রওনা দেন চিকিৎসকরা।    
হার্ট, লিভার এবং একটি কিডনি এসএসকেএমে আনার পরই বিলম্ব না করে দ্রুত অস্ত্রোপচার শুরু করেন চিকিৎসকরা। দাতার অপর একটি কিডনি দেওয়া হয় আলিপুরের কম্যান্ড হাসপাতালের এক রোগীকে। এসএসকেএমে অঙ্গদাতা অপ্রতিমবাবুর হার্ট প্রতিস্থাপন করা হয় তমলুকের বাসিন্দা গণেশ কুইল্যার (‌২৩)‌ শরীরে। লিভার দেওয়া হয় কসবার বাসিন্দা স্বরূপকুমার পালকে (‌৪৮)‌। কিডনি পান হাওড়ার মল্লিক ফটকের বাসিন্দা ৩১ বছরের তারক ডোম।  এসএসকেএমের এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ গৌতম সেনগুপ্তর নেতৃত্বে হার্ট প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হতে হতে প্রায় বিকেল গড়িয়ে যায়। লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার শেষ হতে প্রায় ন’‌টা বেজে যায়। হেপাটোলজি বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরির তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের পর্ব মেটে। হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোসার্জারির সম্মাননীয় অধ্যাপক প্রখ্যাত ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জেন ডাঃ সুভাষ গুপ্তা দিল্লি থেকে আসেন। ডাঃ চৌধুরি জানান, গ্যাস্ট্রোসার্জেন ডাঃ সোমক দাশ এবং অন্য চিকিৎসকরা মিলে অস্ত্রোপচার করেন। ডাঃ সুভাষ গুপ্তা অস্ত্রোপচারের শুরুর দিকে ছিলেন। পরে চলে যান। কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার ইউরোলজির প্রধান ডাঃ দিলীপ পাল, ইউরো সার্জেন অনিমেষ দাশ এবং নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা মিলে করেন। শেষ হতে প্রায় বিকেল পাঁচটা বেজে যায়। রোগীদের যাতে কোনও সংক্রমণ না হয় তার জন্য তাঁদের আইসিইউ–‌এ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top