সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: চারপাশে সবাই যখন ঘুমিয়ে কাদা, তখন রাতভর মোবাইলে চোখ, ক্লান্তিহীন অনলাইন গেম, কিংবা সকালের আলো ফুটে গেলেও চলছে ভিডিও চ্যাট— এই রকম নিদ্রাহীন রাত এখন আর মাঝেমধ্যে নয়, ফিরে আসছে ঘন ঘন। এই নিদ্রাহীনতা লকডাউনের দান। ৯ সপ্তাহ হতে চলল লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ঘরবন্দি। দিনে দিনে বাড়ছে তঁাদের দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ। রাত কাটছে বিনিদ্র অবস্থায়। 
বেঙ্গালুরুর নিমহ্যানন্স–‌এর নিউরো–‌ফিজিওলজিস্ট গুলশন কুমার জানাচ্ছেন, ‘শরীর, চাকরি, আর্থিক নিরাপত্তা, বাড়ি সামলানো, বাড়ি থেকে ঠিক সময়ে অফিসের কাজ সামলানো— এ সবই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা। ফলে বাড়ছে নিদ্রাহীনতা।’ সম্প্রতি এ নিয়ে দেশ জুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল ‘‌ওয়েকফিট ডট কো’‌। দেখা গেছে, ১৫০০ উত্তরদাতার ৪৪ শতাংশই লকডাউন ‌পর্বে ঘুমোচ্ছেন দিনে ৬ ঘণ্টারও কম। অনেকে আবার ঘুমোচ্ছেন অনেক বেশি সময়। ৩৩ বছরের গগনজ্যোত কৌর কখনও ভুগছেন অনিদ্রায়, কখনও বেশি ঘুমের রোগে। গত দু’‌মাসে একটি রাতও নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেননি এই মহিলা। সম্প্রতি পিএইচডি–‌তে যোগ দেওয়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপিকার বক্তব্য, কোনও রাতে ৩ ঘণ্টাও ঘুমোতে পারছেন না। আবার কখনও টানা ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও মনে হচ্ছে শরীরটা ক্লান্ত। কখনও উঠে পড়ছেন রাত ৩টেয়। জেনারেল অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের রোগী গগনজ্যোত বলেন, ‘বিছানায় শুলেই হাজারো চিন্তা ভিড় করে মাথায়। তবে চাকরির কথা মনে পড়লেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। মা–‌বাবার করোনা হতে পারে, এই ভয়ও তাড়া করে বেড়ায়।’ দিল্লির বাসিন্দা ২৫ বছরের প্রিয়াঙ্কা দাস। এক সময় রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা ছিল তঁার নিটোল ঘুমের সময়। এখন সন্ধে ৭টা বাজলেই রাজ্যের ঘুম নেমে আসছে চোখে। ঘুমোচ্ছেন রাত ৯টা পর্যন্ত। আর রাত কাটছে জেগে। বিনিদ্র রাতে ভাবছেন আকাশপাতাল। তার জেরে হার্ট অ্যাটাকও হয়ে গেছে একবার।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রকৃতি পোদ্দার বলেন, টানা কয়েক বছরের দৈনিক রুটিন বদলে গেছে এক ধাক্কায়। চাপ তো পড়বেই। শেখা, মনে রাখা ও ঘুমের মধ্যে সম্পর্ক গভীর। ঘুম খুব গভীর হলে মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে যোগাযোগ জোরালো হয়, এতে মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে স্মৃতি জমাট বঁাধতে পারে না। এজন্য দরকার ৭ থেকে ৯ ‌ঘণ্টার গভীর ঘুম। ডাক্তারদের পরামর্শ, শারীরিক পরিশ্রম, যোগা করুন। মন ও দেহকে শান্ত করতে গান শুনুন। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ বেশি ব্যবহার চলবে না। সন্ধের দিকে কোলা, অ্যালকোহল, কফি ও চা নয়। প্রতিদিন চাই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম। তবেই ভাল ঘুম হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top