সাগরিকা দত্তচৌধুরি- বর্ষায় শাক–‌সবজি থেকে রোগ সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে। বাজারের থলেতে পছন্দমতো হরেক শাক–সবজি এনেছেন?‌‌ সাবধান এইসব সবজির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শরীর কাহিল করার মতো মোক্ষম জিনিস। টানা বৃষ্টির জেরে রোগজীবাণু বহনকারী সংক্রমণ আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে জলবাহিত রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সেই কারণে বাড়িতে শাক–‌সবজি আনার পর ভাল করে গরম জলে ধুয়ে তারপরই রান্না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় জল ও খাদ্যবাহিত বিভিন্ন অসুখ হয়। এছাড়াও ভাইরাল ফিভার, মশাবাহিত রোগের পাশাপাশি ডায়েরিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস–এ দেখা দেয়। খাদ্যনালিতেও বিভিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এই মরশুমে কলমি, ছেঁচি, হিঞ্চে, পুঁই, লাল শাক, শাপলা প্রভৃতি না খাওয়াই ভাল। কারণ বর্ষার সময় শাক–সবজির মধ্যে পোকামাকড়, কেঁচো, কাদা মাটি মিশে থাকে। 
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ–এর হেলথ প্রোমোশন অ্যান্ড এডুকেশন বিভাগের ডিরেক্টর–প্রফেসর ডাঃ মধুমিতা দুবে বলেন, ‘‌শহরের বাজারে যে সমস্ত সবজি সরবরাহ করা হয়, সেগুলো যেখানে উৎপন্ন হয় সেখানে অনেক ক্ষেত্রে এখনও মলত্যাগ করা হয়। ‌বর্ষাকালে মাঠে–ঘাটে নোংরা জল জমে থাকে। বিষ্ঠা ও কাদার মধ্যে জীবাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ে। বাজার থেকে শাক–‌সবজি কিনে যদি ভাল করে না ধুয়ে খাওয়া কিংবা রান্না করা হয়, তাহলে নানা ধরনের আন্ত্রিক সংক্রমণ ও কৃমি হতে পারে। এছাড়াও বাজারে সবজির ওপর যে জল ছেটানো হয় তা পরিস্রুত নয়। বিশেষ করে স্যালাডে ব্যবহৃত শাকপাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি গরম জলে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া আবশ্যক। দূষণ এড়াতে মাছ মাংস এবং সবজি কাটার ছুরি বা বঁটি আলাদা রাখা দরকার। সবজি কাটার পর এবং খাবারে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।’‌
জনস্বাস্থ্য রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দ্বৈপায়ন মজুমদার বলেন, ‘‌বর্ষার সময় রাস্তাঘাটে অনেক জায়গায় নোংরা জল জমে থাকে। সেই জল শাক–সবজির মধ্যে লেগে থাকলে তার থেকে বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমিত হয়ে পেট খারাপ হয়। সবজি পরিষ্কার জলে ভাল করে ধুয়ে রান্না করা উচিত। দেখতে হবে রান্না যেন কাঁচা না থাকে, ভাল করে সেদ্ধ হওয়া দরকার।’‌ 
বি সি রায় শিশু হাসপাতালের সুপার ডাঃ সন্দীপ সামন্ত বলেন, ‘‌অপরিষ্কার হাতে শিশুদের খাওয়ানো কখনই উচিত নয়। সদ্যোজাতদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে। বাড়িতে ভেজা জামাকাপড় ভাল করে না শুকোলে তার থেকে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ বাড়ে। শিশুদের ডায়েরিয়া, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি হয়। ভাইরাল ডায়েরিয়া ওআরএসে নিয়ন্ত্রণ না হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top