সাগরিকা দত্তচৌধুরি: বিষ চিহ্নিতকরণের কাজ এবং তার চিকিৎসা পরিষেবা একই ছাদের নীচে দেশের মধ্যে প্রথম পাওয়া যাবে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বিষ সংক্রান্ত তথ্য জানানোর পাশাপাশি এবার  যাবতীয় পরিষেবা দিতে আরজি করে তৈরি হচ্ছে ‘‌পয়জন ডিটেকশন সেন্টার’‌। এর জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বরাদ্দ অর্থ অনুমোদন হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আরজি করের অধ্যক্ষ ডাঃ শুদ্ধোধন বটব্যাল। বিষ খাওয়া রোগীর ক্ষেত্রে কী করণীয় বর্তমানে হাসপাতালের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
শুদ্ধোধনবাবু  বলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের অধীনে এখন পয়জন ইনফরমেশন সেন্টার (‌পিআইসি)‌ চলছে। এরপর আমরা পয়জন ডিটেকশন সেন্টার তৈরি করতে চলেছি। ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হবে। এর জন্য ‌১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য দপ্তর অনুমোদন করেছে। বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেলা রোগীর চিকিৎসায় আরও সুবিধা হবে।’ শিশু এবং বয়স্কদের কথা ভেবে পৃথক বিভাগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। খাবার বা কোনও জিনিস ব্যবহারের ফলে দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের অজান্তে যে বিষ শরীরে প্রবেশ করে, তার ওপর আগামী দিনে বিষ চিহ্নিতকরণ সেন্টারে গবেষণার ভাবনাও রয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
আরজি করের ফরেনসিক অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং পয়জন ইনফরমেশন সেন্টারের ইনচার্জ ডাঃ সোমনাথ দাশ জানিয়েছেন, ‘‌বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেললে এতদিন একটা নির্দিষ্ট প্রোটোকল ধরে চিকিৎসা হতো। এখন আরও নির্দিষ্ট করে নমুনা পরীক্ষা করে বিষ চিহ্নিত করে দ্রুত চিকিৎসা করা যাবে। আমাদের মিনি ল্যাবরেটরিতে টক্সিকোলজি, রেডিওলজি এবং প্যাথলজি ইউনিট থাকবে। কম্প্রিহেনসিভ ট্রিটমেন্টের জন্য যেটাকে আমরা বলি ‘‌পয়জন কন্ট্রোল সেন্টার’‌ যা এখনও পর্যন্ত দেশে একটিও নেই। আগামী ৬–৮ মাসের মধ্যে আশা করছি আমরা চালু করে দিতে পারব। অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের রোগীর নমুনাও এখানে পরীক্ষা করা হবে।’‌
সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ রীনা দাশ বলেন, ‘‌এটি আলাদা একটা ইনস্টিটিউটের মতো হবে। যেখানে বিষের তথ্য জানানো, বিষ চিহ্নিতকরণ এবং রোগীর চিকিৎসা চলবে। সঙ্গে সঙ্গে বিষ চিহ্নিত হলে চিকিৎসায় রোগীর বাঁচার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।’‌ সোমনাথবাবু বলেন, ‌‘‌বিষ খাওয়া রোগী যদি ৭–১০ দিন পর মারা যান তারপর তাঁর ভিসেরা পরীক্ষাতে নির্দিষ্ট করে বিষক্রিয়া সেভাবে পাওয়া যায় না। ময়নাতদন্তেও বিশেষ কিছু মেলে না। কারণ পেট ওয়াশ করলে, মলমূত্রের সঙ্গে বিষ বেরিয়ে যায়। খাওয়ার কিছুদিন পর পরীক্ষা করলে বিষের অস্তিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। আমাদের এই ল্যাবরেটরি চালু হলে সঙ্গে সঙ্গে নমুনা পরীক্ষায় সহজেই বলে দেওয়া যাবে কী বিষ খেয়েছে বা কী ধরনের বিষক্রিয়া হয়েছে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top