আজকালের প্রতিবেদন: বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া ৩ জনের নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে ৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ২ জন কেরলের করোনা–আক্রান্তের সঙ্গে একই বিমানে চীন থেকে এসেছিলেন। কোচি থেকে বজবজ বন্দরে আসা একটি জাহাজের এক নাবিকের জ্বর থাকায় এদিন তাঁকেও আইডি–তে ভর্তি করা হয়েছে। আইডি–সূত্রে জানা গেছে, এঁদের ৩ জনকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তাঁদের নমুনাও পুণেতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে চীন, সিঙ্গাপুর ফেরত অনেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আইডি–তে আসছেন।
কলকাতা বন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৯ জানুয়ারি থেকে যত জাহাজ আসছে সব ক’‌টির নাবিকদেরই আবশ্যিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কলকাতা ও বজবজ বন্দরে ১২০০ জন নাবিকের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। মঙ্গলবার কোচি থেকে আসা ‘‌আর্ক প্রেস্টিজ’‌ নামে একটি জাহাজের এক নাবিককে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষার সময় দেখা যায় তাঁর দেহের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বেলেঘাটা আইডি–তে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হয়।
সোমবার রাতে চীন থেকে ফেরা তারকেশ্বরের এক বাসিন্দা আইডি–তে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সকালে আসেন ভুবনেশ্বরের এক বাসিন্দা। তিনিও কেরলের করোনা আক্রান্তের সঙ্গে একই বিমানে ফিরেছিলেন। তিনি ভুবনেশ্বরে চিকিৎসা না করিয়ে কলকাতায় চলে এসেছেন। ভর্তি হয়েছেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। হাসপাতালের পক্ষে অধ্যক্ষ অণিমা হালদার জানিয়েছেন, নতুন করে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন তাঁদের দু’‌জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সোমবার যে তিনজন ভর্তি হয়েছিলেন তাঁদের নমুনার প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, তাঁরা করোনা–আক্রান্ত নন। আইডি সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া নাবিকের নমুনা বুধবার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
কলকাতা বিমানবন্দরেও কড়া নজরদারি চলছে। চীন থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের আলাদা বাসে করে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। বেসরকারি বিমান সংস্থা গোএয়ার জানিয়েছে, যে সব যাত্রী সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, ফুকেটে যাবেন বা ফিরবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁরা চাইলে কোনওরকম ‘‌ক্যান্সেলেশন ফি’‌ ছাড়াই টিকিট বাতিল করতে পারবেন। প্রয়োজনে যাত্রার দিনও বদলে নিতে পারবেন।
এদিকে, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে চীন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড থেকে ফেরাদের মধ্যে। দলে দলে তাঁরা বেলেঘাটা আইডি–তে পরীক্ষার জন্য ভিড় করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, তাঁদের শরীরে যদি কোনওভাবে করোনা ভাইরাস ঢুকে থাকে, তাহলে বাড়ির অন্যদেরও সমস্যা হবে। তবে তাঁরা কেউই ভর্তি হতে রাজি নন। পরীক্ষা করিয়ে চলে যেতে চান। হাসপাতালের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছে, ভর্তি না হলে এটা করা সম্ভব নয়। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top