আজকালের প্রতিবেদন: স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য যে খসড়া আচরণবিধি জারি করেছে রাজ্য, তার দুটি ধারায় বদল আনা হবে। মঙ্গলবার একথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। যে দুটি ধারায় বদল আনা হবে তা হল ১৫ এবং ২২। তবে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে, কোনও পরামর্শ বা মতামত এলে তার ভিত্তিতে অন্য ধারাগুলিতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। 
সম্প্রতি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য ২৪ দফা আচরণবিধির খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। তার ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের মধ্য শিক্ষা পর্ষদের আগাম অনুমতি নিতে হবে। ২২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, চাকরি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে একজন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী সরকার বা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হতে পারবেন না। আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নিষ্পত্তির সময় দিতে হবে। একমাত্র প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা থাকলে তিনি আইনের সাহায্য নিতে পারবেন। এই দুটি ধারা নিয়ে শিক্ষমহলে বিতর্ক দেখা দেয়। এদিন বিধানসভায় নিজের ঘরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌২২ নম্বর ধারায় ভাষাগত কিছু ভুল রয়েছে। যা ঠিক করা হবে। অনেক সময় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি জানতেই পারেন না, এদিকে মামলা হয়ে যায়। তাই ভাষাগত বদল করে বলা হবে আদালতে যাওয়ার আগে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকেও একটি চিঠি দিতে।’‌ ১৫ নম্বর ধারায় যে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে পর্ষদের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০০৪ সালে, বাম আমলে যে আচরণবিধি প্রকাশ হয়েছিল তার উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌কোন কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে তা ব্যাখ্যা করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ২০০৪ সালের বিধিতে যা আছে সেটাই বলা হবে।’‌ এদিন ২০০৪ সালের বিধিটি পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ২০০৪ এর বিধিতে বলা আছে, কেন্দ্র, রাজ্য, পর্ষদ, সংসদ এবং স্কুলের নিজস্ব অনুষ্ঠানে যেতে গেলে পরিচালন সমিতির অনুমতি নিতে হবে। যেহেতু সমিতির সব ক্ষমতা পর্ষদের হাতে দেওয়া হয়েছে, এক্ষেত্রে এই ধরণের অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে পর্ষদের অনুমতি নিতে হবে।  বছরে একবার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের যাবতীয় সম্পত্তির হিসেব দাখিল, চাকরির দুবছরের মধ্যে পুলিস ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল শংসাপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি থাকবে। কারণ এ নিয়ে বিধানসভায় বিল পাস হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বলেন,‘‌বাম আমলেই আচরণবিধি তৈরি হয়েছিল। যার প্রয়োগ হয়নি। আমরা সেটাই জনসমক্ষে নিয়ে এসেছি। নতুন কিছু যুক্ত করা সেভাবে হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ–এর কিছু নেই। শিক্ষার প্রাঙ্গনে শিক্ষাই যাতে প্রাধান্য পায় সেটাই দেখা হচ্ছে।’‌
সম্প্রতি সমিতির হাত থেকে নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়া ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাই মধ্য শিক্ষা পর্ষদের হাতে দেওয়া হয়েছে। কার্যত কোনও ক্ষমতাই নেই সমিতির। এমনকী সমিতি ভাঙার ক্ষমতাও নিজের হাতে রেখেছে সরকার। এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌পর্ষদকে নিয়োগকর্তা না করলে আর্থিক সহ অন্যান্য দুর্নীতিতে যুক্ত থাকা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারছিল না। তাছাড়া অনেক সময় সমিতি নিয়োগপত্র থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দিচ্ছিল। সেই কারণেই পর্ষদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top