চিরদীপ ভট্টাচার্য: সায়েন্স তো বটেই, আর্টস কিংবা কমার্স নিয়ে ১০+‌২ বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে থাকা বহু পড়ুয়ারই লক্ষ্য থাকে ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়া। দেশে তো বটেই, এ রাজ্যেও বহু প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে যারা দাবি করে, সারা বিশ্বের হোটেল এবং হসপিটালিটি শিল্পের চাহিদা মেনে তারাই সেরা পরিকাঠামো নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
কিন্তু, একটু সচেতন অভিভাবক মাত্রেই জানেন, কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটন মন্ত্রক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, কিংবা আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কেটারিং টেকনোলজি স্বীকৃত না হলে যত বড় মাপেরই হোক, পড়ে হালে তেমন পানি পাওয়া মুশকিল। 
ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের অধীনে একটি স্বশাসিত সংস্থা হল ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কেটারিং টেকনোলজি। ২১টি কেন্দ্রীয় আইএইচএম (‌ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট)‌, ২৫টি রাজ্য সরকারি আইএইচএম, ২৪টি বেসরকারি হোটেল ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ সংস্থা এবং ১টি পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট এই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে বি এসসি ইন হসপিটালিটি অ্যান্ড হোটেল অ্যাডমিনিস্ট্রিশনের কোর্স করিয়ে থাকে। এর বাইরে আরও কয়েকটি ফুড ক্র‌্যাফ্‌ট ইনস্টিটিউট কোর অপারেশনাল ক্ষেত্রে ভর্তির জন্য এই পরীক্ষার র‌্যাঙ্ককে প্রাধান্য দেয়। কেন্দ্রীয় আইএইচএম–‌এর মধ্যে কলকাতার আইএইচএম (‌তারাতলা)‌ এবং বেসরকারি হোটেল ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ সংস্থার মধ্যে কলকাতার গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অগ্রগণ্য।
এনসিএইচএমসিটি স্বীকৃত আইএইচএম–গুলিতে ছয় সেমেস্টারবিশিষ্ট তিন বছরের বিএসসি কোর্স করানো হয়। এই কোর্সটি চলে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে। তিন বছরে মোট কোর্স ফি পড়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মতো। উল্লেখ্য, আইএইচএম–‌এ পড়ার সুযোগ পেলে এই টাকাটা ব্যাঙ্ক থেকে শিক্ষা ঋণ হিসেবেও মিলতে পারে।
যে কোনও শাখার (‌হিউম্যানিটিজ, কমার্স, সায়েন্স)‌ ১০+‌২ বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করা বা ২০২০–তে দিতে চলা পড়ুয়ারা এই পরীক্ষায় বসতে পারে। ভোকেশনালের ১০+‌২ পড়ুয়ারাও এই পরীক্ষায় বসতে পারে। ১ জুলাই, ২০২০ তারিখের ভিত্তিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ২৫ বছর।
২০২০–‌র এনসিএইচএম জেইই হবে ২৫ এপ্রিল, শনিবার। সকাল ৯.‌৩০টা থেকে দুপুর ১২.‌৩০টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা মেয়াদের কম্পিউটার বেসড এই লিখিত পরীক্ষায় মাল্টিপল চয়েসধর্মী প্রশ্ন থাকবে এই সব বিষয়ের ওপর: নিউমেরিক্যাল এবিলিটি অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল অ্যাপটিটিউড (‌৩০)‌, রিজনিং অ্যান্ড লজিক্যাল ডিডাকশন (‌৩০)‌, জেনারেল নলেজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ারস (‌৩০)‌, ইংলিশ ল্যাঙ্গোয়েজ (‌৬০)‌, অ্যাপটিটিউড ফর সার্ভিস সেক্টর (‌৫০)‌। ২০০টি প্রশ্নে মোট নম্বর ৮০০। প্রতিটি ঠিক উত্তরের জন্য যেমন ৪ নম্বর মেলে, একইভাবে প্রতি ভুল উত্তর চিহ্নিত করার জন্য ১ নম্বর কাটা হয়।
লিখিত পরীক্ষায় পাওয়া র‌্যাঙ্কের ভিত্তিতেই কলেজগুলিতে ভর্তি নেওয়া হয়। পরীক্ষার পরে গ্রুপ ডিসকাশন বা ইন্টারভিউয়ের ব্যাপার নেই। সর্বভারতীয় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা এবং শিলিগুড়ি।
https://nchm.nta.nic.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‌অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। আবেদনের ফি ৯০০ টাকা। ইডব্লিউএসদের ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা এবং তফসিলি/‌ প্রতিবন্ধীদের ৪৫০ টাকা। পরীক্ষা সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যপুস্তিকা খুঁটিয়ে দেখতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top