সাগরিকা দত্তচৌধুরি: দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহারে বাড়ছে ‘‌কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’‌। কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় থাকা, মোবাইলে অতিরিক্ত গেম খেলা, ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ করায় শিশু ও স্কুল পড়ুয়াদের চোখে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। স্বাভাবিকভাবে চোখের পলক মিনিটে ১২ থেকে ১৬ বার পড়ে। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে টানা কম্পিউটারে কাজ করার ফলে মিনিটে মাত্র ৬ থেকে ৮ বার পলক পড়ে। এর ফলে চোখ তাড়াতাড়ি শুষ্ক হয়ে পড়ছে। কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মাঝে মধ্যেই দূর এবং কাছের দৃষ্টি ঝাপসা হয়, চোখ লাল হওয়া, জল পড়ে, মাথাব্যথাও হয়। অনেক সময় ডাবল ভিশন হয়। চোখ ছাড়াও ঘাড় ও পিঠের সমস্যা দেখা যায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় কম্পিউটারে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের ৯০ শতাংশেরই এই সমস্যা হয়।  দিশা আই হসপিটালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ পার্থপ্রতিম পাল বলেন, ‘কম্পিউটারে অনেকক্ষণ গেম খেললে বা কাজ করলে চোখের পেশি বিরতি না পাওয়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে চোখে খারাপ হয়। চোখ জ্বালা, ঝাপসা ভাব হয়। অভিভাবকদের উচিত স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করানোর আগে একবার চক্ষু পরীক্ষা করানো। কম্পিউটারের দূরত্ব ঠিক করে নেওয়া দরকার।’‌ 
এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডাঃ সমীর কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘‌কোনও জিনিস যখন মন দিয়ে দেখি তখন চোখের পাতা বন্ধ করি না। এক দৃষ্টে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকাকে বলে স্টেয়ারিং। আমাদের চোখের ল্যাক্রিম্যাল গ্রন্থি এবং অন্যান্য গ্রন্থি থেকে নির্গত জল চোখের মণি ও সাদা অংশকে সবসময় ভিজিয়ে রাখে। ভিজে থাকার ফলে বাইরের উত্তাপে চোখ শুষ্ক হয় না। এই ভিজিয়ে রাখার কাজটা করতে সাহায্য করে চোখের পাতার নড়াচড়া। এক্ষেত্রে মিনিটে অন্তত ১০–১২ বার চোখের পলক পড়া জরুরি। এটা যদি কমে যায় তখনই চোখ শুষ্ক হবে। চোখের সাদা অংশ এবং কালো তারার (‌কর্নিয়ার)‌ ক্ষতি হয়। বেশিক্ষণ কাছে দেখলে চোখের পেশির ভারসাম্যও নষ্ট হয়। কম্পিউটার যে দূরত্বে রয়েছে সেই অনুযায়ী চোখের পাওয়ারের চশমা পরা উচিত।’‌       
 

জনপ্রিয়

Back To Top