আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একঝাঁক পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের সামনে কেরিয়ারের নতুন দিগন্ত তুলে ধরল মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (‌ম্যাকাউট)।‌ ডেটা সায়েন্স থেকে সাইবার টেকনোলজি, জেনেটিকস থেকে অপ্টোমেট্রি এমন ১৯৮টি আন্ডার গ্র‌্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট কোর্স নিয়ে রবিবার পড়ুয়াদের বিপুল উৎসাহ চোখে পড়েছে ম্যাকাউট আয়োজিত অ্যাওয়ারনেস ফেয়ার, সেমিনার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে। শনিবার দু’‌দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। 
এদিন ছিল সেমিনার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। শিলিগুড়ির সিটি সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ডা.‌ সৈকত মৈত্র, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী, টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির সহ উপাচার্য ও টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কো–‌চেয়ারম্যান মানসী রায়চৌধুরি, ম্যাকাউটের এফ ও ডা.‌অত্রি ভৌমিক, শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ডিরেক্টর ডা.‌ জ্যোতির্ময় ঝম্পটি, আই লিডের ট্রাস্টি এবং চেয়ারম্যান ও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ প্রদীপ চোপড়া, ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের ট্রাস্টি ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা.‌ তাপস সাহা, কালিম্পং রকভিল কলেজের ট্রাস্টি ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন প্রধান, জর্জ গ্রুপ অফ কলেজেসের ডিরেক্টর সিরঞ্জনি যোশি, এনএসএইচএম কলেজের অধ্যক্ষ ডা.‌ কৃষ্ণেন্দু সরকার–‌সহ বিশিষ্টরা। 
সেমিনারে নিজের ভাষণে পড়ুয়াদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা দেন সত্যম রায়চৌধুরী। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মানসিকতায় বদল আনার কথা বলে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে নতুন পঠন–‌পাঠনের দিকনির্দেশ দেন ডা.‌ সৈকত মৈত্র। অন্য বক্তারাও নতুন নতুন কোর্স নিয়ে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করেন। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির তরফে উত্তরবঙ্গের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শিলিগুড়িতে শিগগিরই একটি ইনফর্মেশন সেন্টার খোলার কথা জানানো হয়েছে। ২০০ কলেজকে অনুমোদন দিয়েছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি। প্রতি বছর বিভিন্ন কলেজ থেকে ম্যাকাউটের নন এআইসিটিই কোর্সে পাশ করা ৯০ শতাংশ পড়ুয়া দেশের ৭০০–‌র বেশি কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছেন। নতুন করে যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও ২০টি কোর্স চালু করতে চলেছে ম্যাকাউট। বিভিন্ন কোর্সের উন্নতিতে আমেরিকা, ব্রিটেন–‌সহ দশটি দেশের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরও করা হয়েছে।
ম্যাকাউটের পক্ষ থেকে স্টুডেন্টদের প্লেসমেন্টের কথা মাথায় রেখে একটি সেন্ট্রাল পোর্টালও খোলা হয়েছে। ইউনিভার্সিটির তরফে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইন্টার্নশিপেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্লেসমেন্টকেন্দ্রিক যথেষ্ট সহযোগিতা পাওয়ার জন্য গত বছর এখানকার ছাত্রছাত্রীরা ২–৩টি করে আকর্ষণীয় চাকরিও পেয়েছেন। এছাড়াও ম্যাকাউটের পড়ুয়াদের মধ্যে যাঁরা কোর্স করে ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান তাঁদেরও প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হয়ে থাকে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী দিনে ডিজিটাল টেকনোলজি, মিডিয়া, ট্রাভেল-‌ট্যুরিজমের মতো ক্ষেত্রে প্রচুর সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে দরকার পড়বে প্রশিক্ষিত পেশাদারদের। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই মৌলানা আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি তাদের কাজ করে চলেছে। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৪৫ হাজার পড়ুয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। 
এদিনের ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে পড়ুয়াদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডা.‌ সৈকত মৈত্র। বিশেষজ্ঞদের কাছে দিশানির্দেশ পেয়ে খুশি পড়ুয়ারাও। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলের অধ্যক্ষ ও ছাত্রদের পাশাপাশি ম্যাকাউট অনুমোদিত কলেজের প্রতিনিধিরাও এদিন উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন কলেজের স্টলগুলোতেও পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ভিড় উপচে পড়ে দু’‌দিন ধরেই।

জনপ্রিয়

Back To Top