আজকালের প্রতিবেদন: ‌কলকাতায় দূষণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা এবং তার গুণমান দুটোই কমছে। অত্যধিক ধূমপান, মদ্যপান, অফিসে অতিরিক্ত কাজের চাপ, সারাদিন ল্যাপটপ, মোবাইলে ব্যস্ত থাকা সহজেই পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব ডেকে আনছে। বন্ধ্যাত্বের জন্য এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। আদপে তা ঠিক নয়। এখন পুরুষদের বন্ধ্যাত্বও ক্রমশ বাড়ছে। কারণ শুক্রাণুর কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। আগেও পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব দেখা যেত কিন্তু এখন জীবন প্রণালীর ধরন বদলে যাওয়ায় তা অনেক বেড়ে গেছে। কলকাতায় চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব পুরুষদের। ‌সন্তানধারণের সমস্যা নিয়ে অনেকেই আসছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্ত্রীর কোনও সমস্যা নেই অথচ স্বামীর শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান খারাপ।
ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকশন (‌ইসার)‌ বঙ্গীয় শাখার সম্পাদক ডাঃ সুদীপ বসু জানিয়েছেন, ‘‌বিভিন্ন গবেষণায় এটি প্রমাণিত পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমছে। এখন প্রচুর রোগী পাচ্ছি। অনেকগুলি কারণের মধ্যে একটি হল জীবনযাপনে কোনও ভারসাম্য না থাকা। অন্য কারণগুলির মধ্যে হল সারাদিন কাজকর্মের পর অনেক রাতে বাড়ি ফিরে কেউ জাঙ্ক ফুড খাচ্ছেন। কেউ আবার মদ্যপান, ধূমপান করছেন। ফলে, স্বাভাবিকভাবে যৌন মিলনের ক্ষমতা ও ইচ্ছে কোনওটাই থাকছে না। এর সঙ্গে দূষণ ভীষণভাবে জড়িত। দূষণের বিষ থেকে শরীরে বিশেষ পদার্থ আরওএস (‌রিঅ্যাক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস)‌ তৈরি হয়ে শুক্রাণুর ডিএনএ–র ক্ষতি করে। ফলে, শুক্রাণুর নিঃসরণ কমে যাওয়ায় ফার্টিলাইজেশন ঠিকমতো হয় না। এছাড়াও মোবাইল, ল্যাপটপ অত্যধিক ব্যবহারে শুক্রাণুর ক্ষতি হতে পারে।’‌ 
কলকাতায় ইসার বেঙ্গল আয়োজিত ‘‌ফার্টিলিটি কনক্লেভে’‌ স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্বরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরুষরা এখন শরীরচর্চা করার সময় পান না। রাস্তাঘাটে কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল, রঙিন খাবার থেকে ক্ষতি হচ্ছে শরীরের। এর ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকার পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে শুক্রাণুর। বাতাসের মধ্যে মিশে থাকা ক্ষতিকর বিষ শরীরে আরওএস বাড়িয়ে ডিএনএ–র পরিবর্তন ঘটিয়ে শুক্রাণুতে প্রভাব ফেলছে।

জনপ্রিয়

Back To Top