আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত আজ হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে নিজের প্রথম অনলাইন ভাষণে এই মন্তব্যই করলেন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার। ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত  ভারতের ২০০ বছরের ইতিহাস সম্পর্কিত অনুষ্ঠান ‘‌কারোয়াঁ’–তে যোগ দিয়েছিলেন রোমিলা। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিক থেকে শুরু করে আধুনিক ঐতিহাসিকদের লেখায় ভারতের ইতিহাস চর্চা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছিল।
সেখানে রোমিলা বলেন, ‘‌জাতীয়তাবাদ হল একটি সমাজের মানুষজন তাঁদের সামুহিক সত্ত্বা সম্পর্কে কী ভাবছে, তারই প্রতিচ্ছবি। এই সামুহিকতার অর্থ, একটি দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি যাতে সমান অধিকার পায়। কিন্তু যখন জাতীয়তাবাদকে একটি বিশেষ পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন জাতীয়তাবাদ লাইনচ্যুত হয়ে সংখ্যাগুরুত্বে পরিণত হয়। এবং সংখ্যাগুরুর আধিপত্য কখনও জাতীয়তাবাদ হতে পারে না।’‌
প্রসঙ্গত, ভারতের ইতিহাসকে নিজেদের ইচ্ছামতো বদলিয়ে, ধর্মের ভিত্তিতে কাল্পনিক ইতিহাস রচনার অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ২০১৪–য় কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর দেশের ইতিহাস থেকে মুসলিম বা ব্রিটিশ আমলের গুরুত্ব মিটিয়ে প্রাচীন ধর্মীয় এবং পৌরাণিক কথাকেই ইতিহাস বলে চালানোর সক্রিয় চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এমনকি সিন্ধু সভ্যতাকে গত বাজেটে নির্মলা সীতারামণ সিন্ধু–সরস্বতী সভ্যতা বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনও পর্যন্ত, হরাপ্পা–মহেঞ্জোদরো অঞ্চলে বেদ–পুরাণে উল্লিখিত অবলুপ্ত সরস্বতী নদীর কোনও প্রমাণ পাননি। বরং গঙ্গা অববাহিকায় অনেক পরে একটি শুকিয়ে যাওয়া নদী খাতের প্রমাণ মিলেছে। যদিও সেটিই অবলুপ্ত সরস্বতী নদী কিনা তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন তাঁরা।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সব জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদেই স্বাধীনতা মিলেছিল, সেকথা বৃহস্পতিবারের ভাষণে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক। কোনও পক্ষের নাম না করেই রোমিলা বলেছেন, ব্রিটিশদের দ্বিজাতি তত্ত্বই ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিল যা পরে গ্রহণযোগ্যতা পায় এক শ্রেণির ভারতীয়দের মনে। রোমিলা বলেন, ‘‌দেশভাগের সময় উঠে আসা দ্বিজাতি তত্ত্বই  ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জন্ম দেয়। এবং বর্তমান ভারতে তর্কের খাতিরে বলা যেতেই পারে সেটাই একে ভেঙে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।’‌
দুটি দেশেই একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবদানকেই তুলে ধরা হয়েছে। যা ইতিহাস হতে পারে না। ঐতিহাসিকদের গবেষণার অধিকার এবং যেকোনও প্রকৃত সত্যকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত, মনে করছেন রোমিলা থাপার। 

জনপ্রিয়

Back To Top