‌নীলাঞ্জনা সান্যাল: বদলে যেতে চলেছে মাধ্যমিক পাশের নিয়ম। সাতটি নয়, পাঁচটি বিষয়ে পাশ করলেই হবে মাধ্যমিক পাশ। তবে এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে ইংরেজি ও গণিতে পাশ করাটা বাধ্যতামূলক। ৭০০–‌‌র বদলে ৫০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রকাশিত হবে মাধ্যমিকের ফল। সম্প্রতি সিলেবাস কমিটির পক্ষ থেকে এমনই প্রস্তাব জমা পড়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তরে। 
দপ্তর সূত্রে খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষা এখন যেমন হয় তেমনই হবে। অর্থাৎ, একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৭০০ নম্বরের পরীক্ষাই দেবে। কিন্তু তার রেজাল্ট তৈরি হবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৫ বিষয়ের ভিত্তিতে। এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে একজন পরীক্ষার্থীকে ইংরেজি ও গণিতে পাশ করতেই হবে। এই দুটি বিষয়ে পাশ করাটা বাধ্যতামূলক রাখার কারণ হল, উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ইংরেজির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলও খোলা হচ্ছে। আর অঙ্ক প্রতিটি জিনিসকে যুক্তি দিয়ে বুঝতে সাহায্য করে। মাধ্যমিকের পরবর্তী স্তর, উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে গেলে অঙ্ক দরকার। 
এখন মাধ্যমিকে একজন পরীক্ষার্থীর ৭টি বিষয়ে পাশ করাটা বাধ্যতামূলক। পাশ নম্বর ২৫। ২৫–‌এর কম পেলে ফেল। এদিকে সমতুল পরীক্ষা, দিল্লি বোর্ডের আইসিএসই–তে ইংরেজি–‌সহ সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যে কোনও ৪টি বিষয়ে পাশ করলেই পাশ। সিবিএসই দশমে ৬টি বিষয়ে পরীক্ষা হলেও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৫টি বিষয়ের ভিত্তিতে রেজাল্ট তৈরির নিয়ম চালু রয়েছে। দুটি বোর্ডের ক্ষেত্রেই অঙ্কে ফেল করেও এই নিয়মের কারণে একজন পড়ুয়া আইসিএসই, সিবিএসই পাশ করে যাচ্ছে। এবং রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের তুলনায় মোট নম্বরেও এগিয়ে থাকছে।  সিলেবাস কমিটিকে এই পুরো বিষয়টি এবং মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি প্রস্তাব দিতে বলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। মানের সঙ্গে আপস না করে কীভাবে দিল্লি এবং কেন্দ্রীয় বোর্ডের সঙ্গে এই অসাম্য ঘোচানো যায় তা দেখতে বলা হয়। প্রসঙ্গত, উচ্চমাধ্যমিকেও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পাঁচটি বিষয়ের ভিত্তিতে ফল প্রকাশিত হয়। 
 সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‌প্রস্তাবটি কার্যকরী। তবে, অঙ্কে অনেকেরই ভীতি থাকে। যে পড়ুয়াটি বিজ্ঞান নিয়ে না পড়ে সাহিত্য বা ইতিহাস নিয়ে পড়বে তার ক্ষেত্রে নবম পর্যন্ত সে যা অঙ্ক শিখেছে তা যথেষ্ট। তাই ইংরেজিতে পাশ করা বাধ্যতামূলক হোক। অঙ্কে নয়।’‌
দপ্তর সূত্রে খবর, প্রস্তাব জমা পড়ার পর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। উৎসবের মরশুম কাটলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‌আগামী বছরের মাধ্যমিক ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে। তাই যে প্রস্তাব জমা পড়েছে তা ২০২০ থেকে কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে ২০২১ সাল থেকে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।’‌ মাধ্যমিকে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হয় ২০১৫ সালে। নতুন পাঠ্যক্রমে প্রথম মাধ্যমিক হয় ২০১৭ সালে। নতুন পাঠ্যক্রমে এই বছরটি নিয়ে তিনবার মাধ্যমিক হল। ৫ বছরের আগে চালু পাঠ্যক্রমে বদল আনা যায় না। পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলছে। তার রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। জমা পড়লে আগে নবম শ্রেণিতে চালু করে ২০২২ সালে নতুন পাঠ্যক্রমে মাধ্যমিক পরীক্ষা হতে পারে, এমনটাই ভাবা হয়েছে। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top