আজকালের প্রতিবেদন: পেটের সমস্যা, চোখের তলায় কালি, ত্বকে সাদা দাগ–‌সহ একাধিক শারীরিক অসুস্থতার জন্য লিভার খারাপকেই দায়ী করে থাকেন অধিকাংশ মানুষ। অনেকে অকারণেই লিভার ভাল রাখার ওষুধ খান। চিকিৎসককে লিভার টনিক লিখে দেওয়ার জন্য জোর করেন রোগীরা। টনিক খেলেই লিভার ভাল থাকবে এরকম ভ্রান্ত ধারণা বহু মানুষের মনে রয়েছে। এই ধরনের ওষুধে লিভারের কোনও উপকার হয় না। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ কল্যাণ বোস জানান, মদ্যপান ছাড়াই এখন লিভারের সমস্যা বাড়ছে। এদেশে লিভারের সমস্যা বা সিরোসিস অফ লিভারের প্রধান কারণ বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইচ্ছেমতো ব্যথার ওষুধ খেলে লিভারের ক্ষতি হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছেমতো অ্যামক্সিসিলিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন গ্রুপ বা স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ খেলেও ক্ষতি হয় লিভারের। অন্যদিকে এখন মুড়ি–‌মুড়কির মতো গ্যাস অম্বলের ওষুধ খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবনে কিডনির ক্ষতি হয়।  নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ পার্থ কর্মকার বলেন, ‘তথ্য অনুযায়ী পিপিআই (‌প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস)‌ গ্রুপের অ্যান্টাসিড দীর্ঘদিন খেলে অ্যাকিউট ও ক্রনিক দু’‌ধরনের কিডনি ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ক্রিয়েটিনিনের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের যাঁরা গত ১০ বছর ধরে পিপিআই গ্রুপের ওষুধ খেতেন, তাঁদের ওই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলাম। তারপর দেখলাম কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক ভাল হয়েছে। পিপিআই গ্রুপের মধ্যে যেমন প্যান্টোপ্রাজোল, ওমেপ্রাজোল, র‌্যাবিপ্রাজোল প্রভৃতি। বাজারে অনেক ধরনের অ্যান্টাসিড রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছেমতো দোকান থেকে কিনে খাওয়া কখনই উচিত নয়।’‌     ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top