আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বড় ধাক্কা খেল ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’–এর ট্যালকম পাউডার। সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে আমেরিকায়। বিশ্বের নানা প্রান্তের ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরোর গবেষকরা দাবি করেছিলেন, জনসন বেবি শ্যাম্পু এবং ট্যালকম পাউডারে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক। যা থেকে হতে পারে ক্যানসার। এবার জনসন বেবি পাউডারকে কাঠগড়ায় তুলল আমেরিকার বিচার বিভাগ। শুরু হয়েছে ফৌজদারি তদন্ত।
বেশ কিছুদিন আগেই জয়পুরের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবোরেটরির পরীক্ষায় সামনে আসে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরীক্ষায় জানা যায়, ফরম্যালডিহাইড–সহ বেশ কয়েকটি মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে রয়েছে ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’–এর বেবি শ্যাম্পু আর ট্যালকম পাউডারে। দেশজুড়ে জনসন বেবি প্রোডাক্টের বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দেয় ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস’। 
কিন্তু বিদেশের মাটিতে কী ঘটল?‌ জানা গিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় এই সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন এক মহিলা। মামলাকারীর অভিযোগ, জনসন অ্যান্ড জনসন সংস্থার বেবি পাউডার ব্যবহার করেই মেসোথ্যালমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মামলাকারীর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় ওই মহিলাকে ভারতীয় মূদ্রায় প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়র কোর্ট।
শুধুমাত্র ক্যালিফোর্নিয়াতেই ১৩ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে। গোটা বিশ্বে প্রায় ১২ হাজার মামলাকারী অভিযোগ জানিয়েছেন এই সংস্থার বিরুদ্ধে৷ ফরম্যালডিহাইড হল বর্ণহীন, ঝাঁঝালো গ্যাস। বিল্ডিং এবং গৃহস্থালির নানা সরঞ্জাম এবং প্লাইউড, ফাইবার বোর্ড, নানারকম আঠা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই রাসায়নিক। খাদ্যদ্রব্যের প্রিজারভেটিভ হিসেবেও ব্যবহার হয়। অন্যদিকে, অ্যাসবেস্টাস হল ক্ষতিকর খনিজ পদার্থ। উচ্চতাপ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই খনিজ পদার্থটি শরীরে ঢুকলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এটাই আছে ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’–এর ট্যালকম পাউডারে। যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ তাদের পণ্য থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকির আশঙ্কা উড়িয়ে এগুলিকে নিরাপদ বলেই দাবি করেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top