আজকালের প্রতিবেদন: শ্বাসকষ্টের সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২৫ থেকে ৬৯ বছর বয়সি বেশির ভাগেরই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হাঁপানি। যা সিওপিডির তুলনায় ভয়ঙ্কর। হাঁপানির ফলে মৃত্যুর হারে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। কিন্তু হাঁপানি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। হাঁপানি এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনহেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, ইনহেলার–‌যুক্ত ওষুধ সরাসরি ফুসফুসে গিয়ে কাজ করে। সিপলা–র গ্লোবাল চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ জয়দেব গোগটে সম্প্রতি দিল্লিতে হিল ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ জাতীয় স্বাস্থ্য সম্মেলনের অনুষ্ঠানে একথা জানিয়ে আরও বলেন, ‘‌মোট জনসংখ্যার প্রতি ৬ ‌জন ভোগেন শ্বাসকষ্টের সমস্যায়। ভারতে ৪২ শতাংশ রোগী বছরে পাঁচবার জরুরি বিভাগে ছোটেন। ১৮ শতাংশ রোগী ২–৩ বার হাসপাতালে ভর্তি হন। ৯৩ শতাংশ হাঁপানি আক্রান্তরা কর্মস্থলে কিংবা স্কুলে বেশির ভাগ সময়ই অনুপস্থিত থাকেন।’‌ ডাঃ গোগটে আরও বলেন, ‘‌সমীক্ষায় দেখেছি, হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ঠিকমতো মানা হয় না। ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখলে কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই 
সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে জীবন কাটানো সম্ভব। খাওয়ার ওষুধের থেকেও বেশি কার্যকরী ইনহেলেশন থেরাপি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।’‌ ভয়, ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সচেতন হয়ে ইনহেলেশন ব্যবহার করলে সহজেই রোগটিকে বাগে রাখা সম্ভব। চিকিৎসক ও রোগীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে জাতীয় স্তরে ‘‌বে–‌রোক জিন্দেগি’‌ প্রচারাভিযান শুরু করেছে ‘‌সিপলা’‌।‌ হাঁপানি সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতাগুলিকে দূর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। হিল ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনারসভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক অনেক ভূয়ো খবর ছড়ায়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব সেই ভুয়ো খবরে প্রভাবিত না হয়ে সত্যতার যাচাই করে মানুষকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্ভুল খবর পরিবেশন করা। এই বিষয়ে আলোকপাত করেন দিল্লির এইমস হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডাঃ শক্তিকুমার গুপ্তা, অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারপার্সন আর শঙ্কর, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশনের ডিরেক্টর জেনারেল কে জি সুরেশ। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা, জার্নাল থেকে কমল সাহানি, ডাঃ সুমিত ঘোষাল, দীনেশ সি শর্মা, স্বদেব শ্রীবাস্তব প্রমুখ ছিলেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top