আজকালের প্রতিবেদন: শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাঁপানি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে বাড়ছে হাঁপানির মাত্রা। সমীক্ষা বলছে, ১০ জন রোগীর মধ্যে সাত জনই হাঁপানির চিকিৎসায় ইনহেলার ব্যবহার করেন না। ফলে ক্রমশ বাড়ছে রোগের প্রকোপ। হাঁপানি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা কাটিয়ে, ইনহেলেশন থেরাপির ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার বিশ্ব হাঁপানি দিবস। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। প্রদাহের কারণে শ্বাসনালিতে বায়ু চলাচলের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। কাশি, শ্বাসকষ্ট, দম বন্ধ অনুভব হলে সাবধান হোন। প্রত্যেকদিন গড়ে ৪০ জন রোগী হাঁপানি কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি মাসে গড়ে ২৫–৩০ জন নতুন শিশুর হাঁপানির চিকিৎসা করতে হয়। প্রতি বছর ৫ শতাংশ করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইনহেলার ব্যবহারের মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লে ও দেখা গেছে ২০ শতাংশ হাঁপানি রোগী বয়ঃসন্ধিকালীন কিংবা কৈশোরে ইনহেলার নেওয়া বন্ধ করছে।  বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শৈবাল মৈত্র বলেন, ‘‌ইনহেলেশন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ওষুধ সরাসরি ফুসফুসের নির্দিষ্ট অংশে প্রয়োগ করা যায়। ফলে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি রোগের লক্ষণগুলিকেও প্রশমিত করে।’‌ ইন্ডিয়ান চেস্ট সোসাইটির পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান ডাঃ ইন্দ্রনীল হালদার বলেন, ‘‌সচেতনতার অভাবে বাড়ছে হাঁপানি। অবহেলা না করে দ্রুত নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে হাঁপানিকে অনায়াসেই বাগে রাখা সম্ভব।’‌ পিয়ারলেস হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সংযুক্তা দে জানিয়েছেন, ‘হাঁপানির উপসর্গ কমে যাওয়ার অর্থ হাঁপানি মুক্ত নয়। চিকিৎসা মাঝপথে থমকে দিলে পরে নতুন করে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ইনহেলার ব্যবহারে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।’‌ শৈবালের মতে, হাঁপানির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। এছাড়াও শিশু অবস্থায় ভুল চিকিৎসা, ভাইরাস ঘটিত রোগেও হাঁপানির সম্ভাবনা থাকে। এখন ওরাল মেডিসিনের তুলনায় ইনহেল্ড কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি ভাল ফলদায়ক।

জনপ্রিয়

Back To Top