কল্যাণ ব্যানার্জি: "‌শরীরের যে–‌কোনও অঙ্গে জটিল  অস্ত্রোপচার চলিত–‌প্রচলিত পদ্ধতিতে হলে রোগীর যন্ত্রণা তো অবশ্যই, তবে তাঁর কাছের মানুষ অথবা তার আত্মীয়স্বজনের ওপর মানসিক চাপ থাকে প্রচণ্ড। যেমন রক্ত চাহিদা পূরণ করা থেকে ওষুধের আয়োজন করা, অপারেশন হওয়ার পর লম্বা পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারের ভারী বিল জোগানোর খরচ— এই সবের মাঝে রোগীকে থাকতে হয় হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন। যা অবশ্য তার কাজের বা জীবনের অগ্রগতির দিক থেকে ক্ষতিকর। আর এই কনভেনশনাল পদ্ধতিতে হওয়া যে–‌কোনও ওপেন সার্জারিতে তীব্র সতর্কতা খুবই জরুরি, কেননা এখানে সংক্রামক জীবাণু শরীরের ভিতর প্রবেশ করার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান আর আমাদের চিকিৎসা প্রণালীকে আরও সরল, সহজ এবং সংরক্ষিক করে তুলেছে নতুন চিকিৎসা প্রণালী, যাকে বলা হয় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, যা আজ মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দেওয়া আরও একটি বড় উপহার মানবজাতির উন্নতির স্বার্থে। আমাদের দেশে ল্যাপারোস্কোপির সার্জারি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে কনভেনশনাল সার্জারি পদ্ধতিতে কিছু ভুলত্রুটিকে তুলে ধরতে  সক্ষম হয়েছে এবং সেই জন্য আর এটা রোগী ও চিকিৎসকদের কাছে একই্ভাবে গ্রহণযোগ্য। দর্শকেরও বেশি প্রায় হাজারের মত জটিল ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি অতি সফলকার সঙ্গে সম্পন্ন করায় ডাঃ ওম টাঁটিয়া আজ এই ক্ষেত্রে পূর্বাচলে অগ্রণী। আর তাঁর তত্ত্বাবধানে গড়া সল্টলেকের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি। 
যার যাত্রা শুরু এই শতাব্দীর শুরুতে। বিশিষ্ট বেরিয়াট্রিক কনসালট্যান্ট এবং মেটাবলিক সার্জেন ড.‌ ওম টাঁটিয়ার আন্তরিক প্রয়াসে সল্টলেকে গড়ে উঠেছিল আইএলএস হাসপাতাল। থেমে না থেকে আজ আইএলএস হাসপাতাল আকাধিক রাজ্যে। বর্ণময় উপস্থিতি বাংলা ও ত্রিপুরায়। জনবহুল উত্তর হাওড়ায় ১০০ কোটি লগ্নিনিবেশ করে একটি আন্তর্জাতিক মাপের স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল করার পথে দ্রুত এগোচ্ছে এরা। একটি অপারেশনের মাঝে অল্প বিরতি নিয়ে তিনি আজকালকে জানালেন তাঁর যাত্রা সম্পর্কে। 
প্রশ্ন:‌ লোকে বলে এই রাজ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা নাকি বেশ ঝুঁকি নেওয়ার মত?‌
উ:‌ জানি না কারা বলে, অপপ্রচার পুরোপুরি আটকানো অসম্ভব। ভাল কাজের প্রশংসা হোক। যদি এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা খারাপ হত, তাহলে কী করে আমরা টিকে থাকতে পারি। শুধু টিকে থাকাই নয়, আমরা এই রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়েছি। দমদমের পর, উত্তর হাওড়াতেও গড়ে তুলছি এক স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল। ১০০ কোটিরও বেশি ব্যয় করে, এটাই হয়ত অপপ্রচারকে ঠেকাতে যোগ্য জবাব। 
প্রশ্ন:‌ অপপ্রচার তো চলছে। সর্বক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য–‌চিকিৎসাও বাদ যায়নি। এখন আবার ডেঙ্গি নিয়ে। কী বলবেন?‌
উঃ আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকতে হবে ডেঙ্গি নিয়ে। তিলকে তাল বানিয়ে দেখানো হচ্ছে। এখানে–‌সেখানে একটু–‌আধটু ডেঙ্গি রোগী ধরা পড়ছে ঠিকই, তাই বলে বাড়তি উত্তেজনা ছড়ানো উচিত নয়। আমরাও সজাগ। 
প্রশ্ন:‌ চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই রাজ্যে রাজনীতির হস্তক্ষেপ কি সত্যিই ঘটে?‌ 
উঃ মোটেই নয়, এটি শান্তিপূর্ণ রাজ্যে, শৃঙ্খলাপরায়ণও। কিছু আইসোলেটেড ঘটনা ঘটে থাকে। আমি রাজনীতির লোক নই, আমার কাজ রুগীদের নিয়ে। তাকে সুস্থ করে, নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়াও আমার উদ্দেশ্য। অটুট বিদ্যুৎ পরিষেবা, যোগ্য সড়ক পরিকাঠামো এবং দক্ষ প্রশাসন আমাদের চিকিৎসার কাজটাকে সরল করে দেয়। 
প্রশ্ন:‌ কিছু বড় বেসরকারি হাসপাতালের কাজে অখুশি মানুষ ও মুখ্যমন্ত্রী। কী ভাবছেন?‌
উঃ আমি একমত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবাকে নিয়ন্ত্রণ করুক এক রেগুলেটর। কিন্তু একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে বসিয়ে দিলেই এই সমস্যা মিটবে না। রেগুলেটিং গভর্নিং বডিতে রাখতে হবে অন্তত বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে। যাঁরা একটি হাসপাতালের রোজকার সমস্যাটা অনুভব করতে পারবেন। আমরা ২৪ ঘণ্টা রুগী দেখি ও রুগী ভর্তি নিই। যাকে ফেরাতে হয় অন্যত্র, অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দেওয়া হয়। 
প্রঃ আইএলএস হাসপাতালের সাফল্যের পেছনে মূল রসায়ন কী?‌
উঃ চিকিৎসার পরিষেবায় লাভ অর্জন করা একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। সেবাভাবনা থাকতেই হবে। না হলে, এই দিকে এক পাও এগোবে না। পরিষেবায় স্বচ্ছতা না থাকলে মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। আমরা রুগীর পরিবারের মানসিক পীড়া অনুভব করি।  তাই তো আমাদেরকে হয়ত বিক্ষোভ–‌ভাংচুরের স্বীকার হতে হয়নি।
শেষে বলি, হাসপাতাল চালানো একার কাজ নয়। চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, সাপোর্ড স্টাফ, সিকিউরিটি, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সবাইকে নিয়েই এই সাফল্য। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top