আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘‌কী হল রাতের বেলাও চোখে চশমা কেন? জয় বাংলা হয়েছে?‌‌’ রাতের বেলা কিংবা ঘরের মধ্যেও কাউকে চো‌খে কালো চশমা পড়ে থাকতে দেখলে আপনা থেকেই এই প্রশ্নটা উঠে আসে আমাদের মধ্যে। কারণ আট থেকে আশি, সকলেই জানে রাতের বেলা কিংবা ঘরের মধ্যেও চো‌খে কালো চশমা পড়ে থাকার আসল কারণটা। আর সেটি হল কনজাংটিভাইটিস। সোজা বাংলায় যাকে বলা হয় ‘‌জয় বাংলা’‌ বা ‘‌চোখ ওঠা’‌। সামনেই ভরা বর্ষার মরশুম। ডেঙ্গু এবং অন্যান্য রোগের প্রকোপের পাশাপাশি এই সময় এই কনজাংটিভাইটিসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ‌ কী এই কনজাংটিভাইটিস?‌ কেন–ই বা এখনকার দিনে তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে? কীভাবে বাঁচবেন চোখের এই রোগ থেকে?‌ কী এর প্রতিকার?‌ সেই সমস্ত কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পুর্ণেন্দু বিকাশ সরকার।

কনজাংটিভাইটিস কী?‌

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাংগাসের আক্রমণে চোখে যে সংক্রমণ হয় কনজাংটিভাইটিস। চোখের এই রোগ আট থেকে আশি সব বয়সেরই হতে পারে। বহুদিন ধরেই চোখের এই রোগ সম্পর্কে অবহিত সবাই। কিন্তু বর্তমানে এই রোগটিই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শুধু চোখ চুলকানো, চোখ থেকে জল পড়া কিংবা চোখ ফুলে লাল হয়ে যাওয়া নয়, এখন চোখের কর্নিয়ারও ক্ষতি হচ্ছে এই রোগে৷ পুর্ণেন্দুবাবু জানাচ্ছেন, বর্তমানে কনজাংটিভাইটিস হলে অনেকসময়েই রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে, আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা হচ্ছে কিংবা চোখ দিয়ে রক্ত পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে৷ কিন্তু কেন এমন ঘটছে? তাঁর কথায়, বর্তমানে আমরা প্রয়োজন ছাড়াই অহেতুক প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-বায়োটিক খাচ্ছি৷ যে কারণে ওই ফাংগাস, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াও আগের তুলনায় নিজেদের অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে৷ আর সে কারণেই অল্প ওষুধে কোনও কাজ হচ্ছে না৷ কিংবা চোখের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে৷ রোগ সারতেও সময় লাগছে, কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে৷

যে ভাইরাসগুলির কারণে এই রোগ হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম অ্যাডেনো ভাইরাস৷ গত তিন-চার বছরে এর প্রকোপে কনজাংটিভাইটিস হওয়ার ঘটনা অনেকাংশেই বেড়ে গিয়েছে৷ অ্যাডেনো ভাইরাস বা এ ধরনের অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণে কর্নিয়ায় ছোট ছোট সাবুর দানা মতো তৈরি হয়৷ যার ফলে দৃষ্টিশক্তি কম যায়, ‘ফটোফোবিয়া’অর্থাৎ আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হয় কিংবা চোখ থেকে রক্ত পড়ার মতো ঘটনা ঘটে৷ ফলে এখন কনজাংটিভাইটিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়৷ খেয়াল রাখতে হয় যাতে কোনওভাবে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়৷

বাঁচার উপায়:

১. হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে৷ অপরিষ্কার হাত চোখে দেওয়া যাবে না৷ চোখ চুলকানো যাবে না৷

২. যদি রুমাল দিয়ে চোখ মোছার অভ্যাস থাকে, তাহলে সবসময় পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করতে হবে৷

৩. বারবার করে হাত ধুতে হবে৷

বাড়িতে বা প্রতিবেশীরদের হলে কী করণীয়:

১. প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ট্রিটমেন্ট করাতে হবে৷ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখে ওষুধ দিতে হবে৷ গরম জলে মাঝেমধ্যেই সেঁক দিতে হবে৷ কালো চশমা পরতে হবে সবসময়৷

২. যাঁর ইনফেকশন হবে, তাঁর ব্যবহৃত কোনও জিনিসই ব্যবহার করা যাবে না৷ রুমাল, চায়ের কাপ, ফোন, হাতের সিগারেট কিংবা অন্যান্য সামগ্রী৷ এছাড়া বাকিদের বারংবার হাত ধুতে হবে৷

৩. কর্নিয়ায় প্রভাব পড়লে কালো চশমা সবসময় পরতে হবে৷ অন্ধকারে রাখতে হবে৷ মোবাইল বা টিভি দেখা বন্ধ রাখতে হবে৷

৪. কমপক্ষে সাত থেকে দশদিন সাবধানে থাকতে হবে৷

৫. তবে কোনওমতেই নিজে থেকে চিকিৎসা করানো উচিত নয়৷ কারণ কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা সারতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে৷ তাই কনজাংটিভাইটিস হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷

জনপ্রিয়

Back To Top