সাগরিকা দত্তচৌধুরি: শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং রোগীদের সুবিধার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (‌এসওপি)‌ অনুযায়ী অনেকগুলি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে এবং কিছুর কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরেই কলকাতার সব মেডিক্যাল কলেজে চিফ সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার ব্যক্তি নিয়োগ করা হয়েছে। প্যানিক বাটন সিস্টেম চালু, সিসিটিভির সংখ্যা, নিরাপত্তারক্ষী বৃদ্ধি হয়েছে। কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ওয়ার্ডে পরিজনদের প্রবেশাধিকার, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। 
জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পর হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়মিত তাদের দায়িত্ব বোঝানো হচ্ছে। দমকল থেকে বিশেষ মহড়াও দেওয়া হয়েছে। কলকাতার সবকটি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা এবং কলকাতা পুলিশের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসার কমব্যাট অ্যান্ড স্পেশ্যালাইড ফোর্সের ডিসি কর্নেল নভেন্দ্র সিং। তারপর এসওপি তৈরি করে কলকাতা পুলিশের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয় স্বাস্থ্যভবনে।  নভেন্দ্র সিং বলেন, ‘হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়াতে এসওপি তৈরি করে অনেকগুলি প্রস্তাব‌ দেওয়া হয়েছে। রোগী–চিকিৎসকদের সুবিধার্থে এবং বিশৃঙ্খলা কমাতে সেগুলি কার্যকর হওয়া জরুরি। এছাড়াও রোগী ও তাঁদের পরিজনদেরও কিছু নিয়মবিধি মেনে চলা উচিত। নিরাপত্তারক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মধ্যে নিয়মিত রাখলে কোনও অশান্তি হলে বড় আকার নেওয়ার আগে প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁরাই মিটিয়ে নিতে পারবেন। সবকিছু খতিয়ে দেখতে মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করা হবে।’‌ 
রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘‌‌এসওপি অনুযায়ী হাসপাতালে কাজ হচ্ছে। একটা বাটন টিপলেই পুলিশের কাছে খবর চলে যাবে সেই সমস্ত অ্যালার্ম বেল ইনস্টল করার কাজ প্রায় শেষের পথে। পুলিশকে বলা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণ দিতে।’‌  কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘‌ আরও ২০৮ জন নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে আবেদন করেছি। প্যানিক বাটন চালু, মূল গেট চেকিং, রোগীদের প্রবেশ বাহির গেট কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কোনও দুর্ঘটনা হলে নির্দিষ্ট রং দিয়ে চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে ‘‌কালার কোডিং’‌ ব্যবস্থা চালুর জন্য স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছি। চারটে গেটের মধ্যে দুটো গেট খোলা এবং বাকি দুটো গেট বন্ধ রাখছি।’‌ ‌  
এনআরএস হাসপাতালের সুপার ডাঃ সৌরভ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ‘‌পুলিশ কিয়স্ক তৈরি করা, প্যানিক বাটন, ওপিডি শেষ হলে মেন বড় গেট বন্ধ করে পাশের ছোট গেট খোলা রাখা–‌সহ একাধিক কাজ হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি পুলিশ দেখছে।’‌  কলকাতা মেডিক্যালের সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো কাজ এসওপি–র আগে থেকেই চলছিল। বিপদ সঙ্কেত অ্যালার্ম দ্রুত চালু হবে। ২ নম্বর গেট খোলা থাকলেও ৬ নম্বর গেট সাড়ে ৬টায় বন্ধ হয়। বাকি গেট ৪টের সময় বন্ধ। এখন ১৮০ জন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে।  আরও চাওয়া হবে।’‌  কলকাতা পুলিশের এক অফিসার জানান, এসওপি–তে যা বলা হয়েছে তা ঠিকমতো মানা হলে অবশ্যই অনেক পরিবর্তন হবে। তবে হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব সেখানকার কর্তৃপক্ষের। তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য অবশ্যই পুলিশ পাশে আছে। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে আগের তুলনায় কমেছে অভিযোগের পাহাড়। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top