আজকালের প্রতিবেদন: পাকস্থলীর ভিতরে ঘায়ের জ্বালা যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিলেন বছর একচল্লিশের এক ব্যক্তি। পাকস্থলী ছিদ্র হয়ে পেটের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। মৃত্যুর মুখ থেকে রোগীকে প্রাণে বাঁচিয়ে নতুন জীবন দিল রুবি জেনারেল হাসপাতাল। ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রথম সপ্তাহে হুগলির ত্রিবেণী থেকে ওই ব্যক্তি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে আসেন জ্বর নিয়ে। তার সঙ্গে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা এবং বমি হচ্ছিল। শারীরিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে ‘‌পেপটিক আলসার পারফোরেশন’‌।‌ দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয়। বহুদিন ধরে গ্যাস্ট্রিক আলসারে ভুগলে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে, দীর্ঘদিন ধরে বাইরের তেলঝাল–মশলাদার– ভাজাভুজি খাবার বেশি খেলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাস, অম্বল হলে নিজের মতো অ্যান্টাসিড না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া জরুরি পরামর্শ চিকিৎসকদের। 
জরুরি ভিত্তিতে অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি করে রোগীকে বাঁচানো হয়। রোগী ভাল আছেন। স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন। অ্যাডভান্সড ল্যাপোরোস্কোপিক, বেরিয়াট্রিক অ্যান্ড জিআই সার্জেন ডাঃ সুমন্ত দে জানিয়েছেন,‘পেপটিক আলসার পারফোরেশন হয়ে রোগীর পাকস্থলীর ভিতরে ঘা হয়ে ফুটো হয়ে যায়। ফলে পাকস্থলীর ভিতরে তরল পদার্থগুলি অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড পেটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে গোটা শরীরে সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল। পেট না কেটে ছোট্ট একটা ছিদ্র করে ল্যাপারোস্কোপি মেশিনের সাহায্যে পাকস্থলীর ছিদ্র সেলাই করে বন্ধ করি। তার ওপর চর্বির একটা আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দিই। পেটের মধ্যে যে ময়লা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেগুলি ভাল করে ধোয়া হয়। এই ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারণত পেট কেটে করা হয়। আমরা ইমার্জেন্সি ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি করি, যা সচরাচর করা হয় না। এতে রোগীর ব্যথা, রক্তক্ষরণের আশঙ্কা কম। দ্রুত সেরে ওঠেন।’‌ অ্যানাস্থেশিস্ট ডাঃ দ্বৈপায়ন ঝা সহায়তা করেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top