আজকালের প্রতিবেদন: করোনা–‌আবহে বিভিন্ন অফিস, বাজার–‌হাট, পথেঘাটে জীবাণুনাশক স্যানিটাইজার টানেল বসানোকে সমর্থন করছেন না চিকিৎসকদের একাংশ। তঁারা জানাচ্ছেন, স্যানিটাইজার টানেলের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই। রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠিকমতো না ‌হলে শরীরের নানা ক্ষতি হতে পারে। সিওপিডি, হঁাপানি, অ্যালার্জিতে ভোগা রোগীদের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।
এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৌমিত্র ঘোষ জানিয়েছেন, স্যানিটাইজার টানেল একেবারেই অবৈজ্ঞানিক, ভঁাওতাবাজি। মাথা, জামাকাপড়, পিঠে কিছু রাসায়নিক–‌মিশ্রিত জল স্প্রে করে দিলে তাতে কোনও লাভ হয় না। করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। নাক–মুখই ভাইরাসের মূল প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার পথ। থুতনিতে না ঝুলিয়ে ভাল করে শক্তপোক্ত মাস্ক পরতে হবে।
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অসীম সরকার জানিয়েছেন, স্যানিটাইজার টানেলের কোনও যৌক্তিকতা নেই। গায়ের জামা, হাতে, মাথায়, গালে কোথাও কি ভাইরাস রয়েছে?‌‌‌ হঁাচিকাশি, জোরে কথা বললে ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। তার জন্য পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভিজিয়ে দেওয়ার কোনও মানে নেই। উল্টে ক্ষতি। টানেলে ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলির প্রভাবে ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। চোখ জ্বালা করে অনেকের। কোন্‌ রাসায়নিক কী দিয়ে তৈরি, আমরা জানি না। শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে ফুসফুসেরও ক্ষতি করতে পারে। শরীরে কোথাও মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতি করলে, উপকারের থেকে অপকার বেশি হবে। কাজেই চোখে চশমা পরতে হবে। নাক–মুখ ভাল করে ঢাকা, হাত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ গৌতম মুখার্জির মতে, ভাল করে হাত ধোওয়া, ডাবল মাস্ক পরাটা বেশি জরুরি। স্যানিটাইজার টানেলে কী মেশানো হচ্ছে, দেখা দরকার। যদি সরকার–‌স্বীকৃত বা নির্ধারিত মাপকাঠি অনুযায়ী রাসায়নিক দেওয়া হয়, সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অযাচিত ভাবে নিয়মবিধি না মেনে যদি বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা হলে শরীরের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top