সাগরিকা দত্তচৌধুরি: ‌আমফান‌–‌দুর্যোগের পর বর্ষাকালীন রোগভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষাজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। নোংরা, দূষিত জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই সময়ে পেটের রোগ হওয়ার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ারও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। করোনা তো রয়েইছে, পাশাপাশি গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দঁাড়িয়েছে পেটের অসুখ। ছোট ছোট পরিসরে জল জমে মশাদের বংশবিস্তার ঘটতে পারে বলে চিন্তার ভঁাজ স্বাস্থ্যকর্তাদের কপালে।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ ঋভু বসু বললেন, ‘শহর ও গ্রামাঞ্চলে নানা রোগ–‌ব্যাধির প্রকোপ বাড়বে। এখনই না হলেও, কিছু দিন পর সেটা বোঝা যাবে। সর্দি–‌কাশি, কলেরা, টাইফয়েড, ডায়েরিয়া, জন্ডিস বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চর্মের অসুখ হবে প্রচুর। গ্রামের দিকে সাপে–‌কাটা রোগী বাড়বে। দূষিত জল কোনও ভাবে পানীয় জলের মধ্যে মিশে ফুড পয়জনিংও হতে পারে। করোনাকে দূরে রাখতে সামাজিক দূরত্ব বজায়, বারে বারে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরাও জরুরি।’‌
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলছেন, ‘‌করোনার পাশাপাশি অন্যান্য রোগ নিয়েও সাবধান থাকতে হবে। আন্ত্রিক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইঁদুরের মূত্র থেকে এক ধরনের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে লেপ্টোস্পাইরোসিস হয়। জলের সঙ্গে কোনও ভাবে মিশে ওই জীবাণু শরীরে ঢুকলেই বিপদ। এতে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, বমির সঙ্গে সঙ্গে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। বাড়িতে সাপের উপদ্রব কমাতে কার্বলিক অ্যাসিড দিলে ভাল হয়।’‌
সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাঃ যোগিরাজ রায় জানিয়েছেন, ‘‌এই পরিস্থিতিতে এক দিকে যেমন জলবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্য দিকে বাড়তে পারে মশাবাহিত রোগও। কারণ জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। ফলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গি হতে শুরু করলে কোভিড–‌এর থেকে পার্থক্য করাটাও তখন কঠিন হয়ে পড়বে।’
জনস্বাস্থ্য রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দ্বৈপায়ন মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‌সাধারণত গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের দুর্যোগের ফলে বেশি সমস্যা হয়। খাবার জলে অপরিস্রুত জল মিশে ডায়েরিয়া দেখা যায়।’‌
চিকিৎসক অসীম সরকার বলেন, ‘বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন, পানীয় জলের সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ববিধি অনেকেই মানছেন না। ফলে করোনার সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রকম পরিস্থিতিতে জলবাহিত অসুখের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের নানা রোগও দেখা দেবে।’‌ ‌  
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এক দিকে লকডাউন চলছে। তার ওপর এত বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। এই অবস্থায় প্রতিষেধক, টিবি, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের ওষুধ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া জলে পিছলে পড়ে, বিদ্যুতের তারে শক্‌ খেয়ে দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য–সচেতনতার বোধ। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে আন্টিভেনম সিরাম, ওআরএস, জীবনদায়ী ওষুধ রাখতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

জনপ্রিয়

Back To Top