আজকালের প্রতিবেদন: শব্দদূষণের তাণ্ডবে শ্রবণ ক্ষমতা ক্রমশ কমছে। অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার, মোবাইল ফোনে কথা বলার দরুনও তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে বধিরতার দিকে। কানের বিভিন্ন সমস্যা, শ্রবণ ক্ষমতা রক্ষার উপায়, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে শুক্রবার থেকে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওটোলজির ২৮তম বার্ষিক সম্মেলন (‌আইসোকন)‌ শুরু হয় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। এদিন সম্মেলনের উদ্বোধন করে রাজ্যের শিশু ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা বলেন, ‘‌কানের চিকিৎসায় ককলিয়া ইমপ্ল্যান্টের প্রয়োজন অনেক। কিন্তু এই মেশিন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কীভাবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এই যন্ত্র আনা যায় তা দেখতে হবে।’ স্বাস্থ্য (‌শিক্ষা)‌ অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং কোম্পানিগুলো যৌথভাবে কাজ করলে ও রোগীর সংখ্যা বাড়লে আশা করি আগামী দিনে দাম কমবে। মানুষের কাছে পৌঁছতে দাম কমানোর দিকে সরকার নজর রাখছে।’‌‌ 
সম্মেলনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি বলেন, ‘‌শব্দদূষণে কানের পর্দা ফাটে। শোনার নার্ভগুলো পুরোটা বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা পুনরায় ভাল অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে নতুন কী পদ্ধতি রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হবে।‌‌ মানুষের মধ্যে মেশিন পরা নিয়ে অনীহা কাজ করে। যত সংখ্যক মানুষ চশমা পরেন, তত সংখ্যক কানে শোনার মেশিন পরেন না।  নিজের ইচ্ছেমতো দোকান থেকে কিনে হিয়ারিং এইড ব্যবহার উচিত নয়।  টানা ৮–১০ ঘণ্টা হেডফোন, মোবাইল ব্যবহারে ধীরে ধীরে বধিরতা গ্রাস করে।’‌ 
ডাঃ এস পি দুবে বলেন, ‘‌একটানা তিন ঘণ্টার বেশি হেডফোনে কথা বললে কানের শ্রবণ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। তথ্য বলছে, প্রতি হাজারে একজন শিশু জন্মগত বধিরতা নিয়ে জন্মায়। একবার ককলিয়া ইমপ্ল্যান্টের পর পরবর্তী সময়ের চিকিৎসা অডিওলজিস্ট দেখানো, স্পিচ থেরাপি অত্যন্ত জরুরি।’‌ দেশ–বিদেশ থেকে ১৫০০ জনের মতো ইএনটি বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে শামিল হয়েছেন। সম্মেলনের আয়োজন অ্যাসোসিয়েশন অফ ওটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ শাখার। রবিবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন চিকিৎসক অমিতাভ ভট্টাচার্য, কে কে রামালিঙ্গম, রবি রামালিঙ্গম, এম ইলামভারতি, উৎপল জানা, অরুণাভ সেনগুপ্ত, সৌমেন্দ্র জানা প্রমুখ।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top