আজকালের প্রতিবেদন: দীপাবলি অথবা কালীপুজোর সময় ও পরে বাতাসে দূষণের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু মানুষ। প্রতি বছর কালীপুজো কিংবা দীপাবলির সময় শ্বাসকষ্টের সমস্যাগুলি প্রধানত বেড়ে যায়। এই সময়ে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীভর্তির সংখ্যা ২০ গুণ বেড়ে যায় বলে জানান ফর্টিস হাসপাতালের বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজা ধর। তিনি বলেন, ‘‌যাঁদের ফুসফুসের রোগ রয়েছে এবং যাঁদের ক্ষেত্রে আগে কখনও ফুসফুসের রোগ ধরা পড়েনি, তাঁদেরও সমস্যা বাড়ে। প্রবীণরা বিশেষত যাঁদের সিওপিডি (‌ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ)‌ তাঁদের এবং যাঁরা আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা এই সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে।’‌ 
কলকাতার মানুষ এই ভেবে স্বস্তি পান যে, কলকাতার থেকে বেশি দূষিত শহর দিল্লি। বাস্তবে তা ঠিক নয়, কলকাতা মেট্রোপলিটন অঞ্চলে এখন সারা বছর জুড়েই দূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের ৬০ শতাংশই ছড়াচ্ছে যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে। বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়ার ফলে মানুষের মধ্যে মারাত্মক শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা সৃষ্টি হয়। অপর এক বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অংশুমান মুখার্জি বলেন, ‘‌কালীপুজো বা দীপাবলির সময়ে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১০ বছরের কম বয়সি। বেশি বয়সিদের মধ্যে ৬৫ বছরের ওপর যাঁরা তাঁদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। শিশুদের হাঁপানি আরও জটিল আকার নেয়। এমনও হয়েছে, ১০ বছরের নীচের শিশুদের ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন পড়েছে।’‌ 
ডাঃ ধর জানান, হাঁপানি কিংবা সিওপিডি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। বারুদের ধোঁয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। আতশবাজি ফাটানোর সময়ে মুখোশ পরলেও খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না। আলোর উৎসবে দূষণ না ছড়িয়ে আনন্দ করার আবেদন জানান বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞরা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top