আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাণঘাতী জীবাণুর সংক্রমণের জেরে পা হারাতে হল ২৬ বছরের এক যুবককে। রাউল রিয়াস প্রথমে ভেবেছিলেন কাজ করতে গিয়ে হয়ত তাঁর পায়ে চোট লেগেছে, তাই জায়গাটা ফুলে হলুদ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ক্রমে সেই হলুদ চামড়া গোটা ডান পায়ে ছড়িয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, রাউল রিয়াসের পায়ে কোনও মাংসাশী জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে। যে জীবাণু ধীরে ধীরে শরীরের মাংস খেয়ে ফেলে।  
হস্টনের বেন টব হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, রাউল সকালে উঠে দেখেন তাঁর ডান পা হলুদ হয়ে গিয়েছে। তিনি খুব ভয় পেয়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসেন। তাঁকে চিকিৎসকরা এমার্জেন্সি রুমে নিয়ে যান। রাউলের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জোশলিন। চিকিৎসকরা রাউলের পায়ের এক্স–রে করে জানতে পারেন, প্রাণঘাতী জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেছে রাউলের ডান পায়ে। রাউলকে শীঘ্রই জীবাণু মুক্ত না করলে তা শরীরের রক্তে মিশে যেতে পারে জীবাণুটি। রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা শরীরে। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেন যাতে রাউলের কোনও অঙ্গের ক্ষতি না করে জীবাণুটিকে তাঁর শরীর থেকে বের করা যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা রাউলের ডান–পা বাদ দিতে বাধ্য হন। জোশলিন বলেন, ‘‌অপারেশন থিয়েটার থেকে প্রায় ৩০ মিনিট পর চিকিৎসকরা এসে জানান জীবাণুর অনেকটাই শরীর থেকে বের করা হয়েছে কিন্তু রাউলের জীবন বাঁচানোর জন্য তাঁর পা শরীর থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

’‌ এর পাশাপাশি জোশলিন ও রাউল অন্য এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। রাউলের কোনও স্বাস্থ্যবীমা ছিল না । 
যার ফলে হাসপাতালের যাবতীয় খরচ জোগাড় করতে বেশ হিমসিম খেতে হয়েছে জোশলিনকে। চিকিৎসকরা জানান, রাউল রিয়াসের শরীরে নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিটিস বা মাংসাশী জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেছিল। এ ধরনের জীবাণি শরীরের নরম জায়গায় বাসা বাঁধে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগের প্রভাব ৭০০ থেকে ১,১০০ জনের মধ্যে দেখা গিয়েছে। যদিও অনেকেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হননি। সাধারণত শরীরের কোনও ক্ষত জায়গা থাকলে সেখান থেকেই এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। নোনা বা কালো জল থেকে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। তবে রাউল রিয়াসের শরীরে এই জীবাণুর সংক্রমণ কীভাবে হল তা চিকিৎসকদের কাছে স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কোনও ক্ষতচিহ্ন বা আঘাত থাকলে হুইলপুলস, হট টাবস, স্যুইমিং পুল এবং নদী–লেকের মধ্যে না যাওয়াই ভাল। কারণ এখান থেকেই এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।  
অঙ্গচ্ছেদের পর রাউলকে কৃত্রিম পা দেওয়া হয়েছে। যার সাহায্যে রাউল আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবেন। 

 

 

হাসপাতালের বেডে রাউল রিয়াস।

জনপ্রিয়

Back To Top