সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ‌স্বাস্থ্যবিমার অধিকারীদের নগদহীন কোভিড চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বাধ্য সমস্ত চুক্তিবদ্ধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার একথা কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে দেশের সাধারণ ও স্বাস্থ্যবিমার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইনশিওরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (‌আইআরডিএআই)‌।
রোগীদের স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু হাসপাতাল নগদহীন কোভিড চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানাচ্ছে। এমন বহু অভিযোগ উঠেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, বিমা সংস্থার চুক্তি থাকলে হাসপাতাল নগদহীন কোভিড চিকিৎসা দিতে বাধ্য। 
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সংস্থার ২০১৬ সালের শর্তাবলীর ৩১ (ডি) ধারা অনুযায়ী, সাধারণ ও স্বাস্থ্য বিমা সংস্থাগুলি অঞ্চলভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবে। এমন চুক্তি হলে বিমাকারী রোগীদের নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কোভিড–১৯ সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসাও রয়েছে। 
কোনও হাসপাতাল নগদহীন চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করলে বিমা সংস্থার কাছে অবিলম্বে অভিযোগ জানাতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযুক্ত হাসপাতালের নামে সংশ্লিষ্ট এলাকা বা রাজ্যের সরকারি সংস্থায় অভিযোগ নথিবদ্ধ করতে হবে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করে তা নিজেদের ওয়েবসাইটে জানাতে বিমা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
পাশাপাশি, বিমাকারীদের নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের তালিকাও দিতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রয়োজনে হাসপাতালগুলির সঙ্গে বিমা সংস্থাগুলিকেকথা বলতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যাতে বিমাকারীদের কোনও সমস্যা না হয়।
প্রসঙ্গত, কোভিড–‌১৯ চিকিৎসার একটি সাধারণ খরচ নির্দিষ্ট করার জন্য বিমা সংস্থার পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছিল। বড় হাসপাতালগুলি সেই সাধারণ খরচের সীমা আদৌ মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 
এদিকে, কোভিড চিকিৎসায় দেশে তৈরি সাধারণ ওষুধগুলির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। দামি ওষুধে রাশ টানার দাবিও তোলেন তঁারা। কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল। সেখানে কোভিড চিকিৎসার ওষুধের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেওয়ার দাবিও ওঠে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top