আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এদেশে সর্দির জন্য চিকিৎসকের কাছে ছোটেন বহু মানুষ। কিন্তু তাঁদের কাছেও মানসিক স্বাস্থ্য ব্রাত্য। অবসাদে ভুগছেন, বুঝতে পারলেও বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান না। কাউকে মুখ ফুটে কিছু বলেনও না। 
পরিস্থিতি এ রকমই ছিল। তার মধ্যেই মারণ থাবার বসালো করোনা। শুধু ফুসফুসে নয়, মনেরও ক্ষতি করছে এই ভাইরাস। বলছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু। সবথেকে বেশি এর ফল ভুগছেন একটু বেশি বয়সিরা, প্রৌঢ়রা।
হু–র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আধানোম ঘেব্রিয়িসাস জানালেন, করোনার কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ‘‌করোনার জেরে সামাজিক মেলামেশা কমে গেছে। এর ফল ভুগছে মানসিক স্বাস্থ্য।’ টেড্রোসের কথায়, করোনার আগেও বেশিরভাগ মানুষ অবসাদের বিষয় এড়িয়ে চলতেন। দুনিয়ায় প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অবসাদের শিকার। তাঁদের মধ্যে কম সংখ্যকই সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে থাকেন। 
টেড্রোসের কথায়, গরিব এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। মানসিক রোগীদের ৭৫ শতাংশই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে প্রৌঢ়রা একাকিত্বে ভুগছেন বেশি। তার ফলে অবসাদের শিকার হচ্ছেন। দ্য জার্নাল অফ জেরোন্টোলজি–তে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। লিখেছেন আইইউ ব্লুমিংটনের অধ্যাপক অ্যান ক্রেন্ডল। তাঁর মতে, এই করোনার কারণে সবথেকে বেশি একাকিত্বে ভুগেছে প্রৌঢ়রা। তার জেরে অবসাদে হয়েছে। কাউকে কাউকে অবশ্য বাঁচিয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। ব্লুমিংটন কমিউনিটিতেই ৯৩ জন প্রৌঢ় অবসাদের শিকার হয়েছেন করোনার আবহে। বাড়ি থেকে বেরোতে না পারাই কারণ। 
৬৮ শতাংশ প্রৌঢ় জানিয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে আগে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন, এখন আর পারেন না। ৭৯ শতাংশ প্রৌঢ় মনে করছেন, তাঁরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে ৬০ শতাংশ প্রৌঢ় আবার জানাচ্ছেন, করোনার কারণে বাড়িতে থাকার জন্য প্রিয়জনের সঙ্গে আগের থেকে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। ৭৮ শতাংশ প্রৌঢ় জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁরা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। 
তবে প্রৌঢ় নয়, মাঝবয়সিরাও কিন্তু এই করোনা এবং লকডাউনের কারণে অবসাদের শিকার হয়েছেন। একাকিত্ব কাটাতে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আশক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে ক্রেন্ডল এখনও সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন, এটা দেখার জন্য যে করোনার কারণে অবসাদ স্বল্পস্থায়ী নাকি দীর্ঘমেয়াদী।  

জনপ্রিয়

Back To Top