Covid: কোভিড সেরে উঠে বেড়ে গেছে ভুলে যাওয়া, কমেছে চিন্তাশক্তি

সাগরিকা দত্তচৌধুরি:‌ কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরে নানা সমস্যায় ভুগছেন মানুষ।

ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও মারাত্মকভাবে বেড়েছে। অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণও বৃদ্ধি পেয়েছে। যাঁদের ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমার ছিল, তাঁদের আরও মারাত্মকভাবে বেড়েছে, আর যাঁদের একেবারেই ছিল না, তাঁদের ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
লকডাউন ও কোভিডের জেরে মানুষের মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বয়স্ক মানুষ যাঁদের আগে থেকেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, করোনার পর তা বেড়েছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও পড়েছে মনে না রাখার প্রভাব। লকডাউনে দীর্ঘ দিন বাড়ি থেকে অনেকেই বেরোননি। কেউ কেউ টিভি, ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যান্য মানুষের সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা, পাড়ায় আড্ডা–এইসব বন্ধ ছিল। মস্তিষ্কের কাজ কম হয়েছে বলে ভুলে যাওয়া, অ্যাংজাইটি, ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমার বেড়েছে। কোভিডে মস্তিষ্ক–‌কোষগুলি সঙ্কুচিত হওয়ায় চিন্তা–‌ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতায় প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ রাজর্ষি নিয়োগী বলেন, ‘‌কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় আমরা দেখেছি, মস্তিষ্কের ওপর কোভিডের সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়েছে। যে–‌কারণে নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারগুলি বেড়েছে। কোভিডের সময়
যাঁদের বেশিদিন হাসপাতালে, আইসিইউ–‌তে থাকতে হয়েছে, বেশি অক্সিজেন ও স্টেরয়েড লেগেছে, তাঁদের মধ্যে ‘‌ডিলিরিয়াম’‌ নামে একটি রোগ হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সাঙ্ঘাতিকভাবে ভুলে গেছেন। যাঁদের ‌ডিলিরিয়াম হয়নি, তাঁরাও কিছুটা ভুলে গেছেন। মস্তিষ্কে অক্সিজেন ঠিকমতো না পৌঁছনোয় ক্ষতি হয়েছে স্নায়ুর। এই ধরনের ভুলে যাওয়ায় ‘‌রিসেন্ট মেমরি’‌ লোপ পেয়েছে। অ্যালজাইমার রোগীদের লকডাউনের সময় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। কিছু থেরাপি ও ওষুধের সাহায্যে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।’‌
পোস্ট–‌কোভিডে যে অ্যালজাইমারের লক্ষণ বেড়েছে, সে–‌প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য রোগ বিশেষজ্ঞ ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌এই ধরনের সমস্যাকে ‘‌ব্রেন ফগিং’‌ বলা হয়। যুক্তি দিয়ে ভাবনা–‌চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পুরনো জিনিস ভুলে যাওয়া, দিন–‌রাতের ভারসাম্য হারানো, ঘুমোনোর সময়ের বদল হওয়া, হিসেবের গোলমাল প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাঁদের ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমার ছিল, তাঁদের বেড়েছে, আর যাঁদের ছিল না তাঁদের এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বয়সেই মনে না রাখার সমস্যা বাড়তে দেখা গেছে।’
বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ গৌতম গাঙ্গুলি বলেন, ‘‌যে–কোনও ভাইরাল সংক্রমণে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ে। পোস্ট–‌কোভিডে মস্তিষ্কের কোষ কিছুটা শুষ্ক হয়ে যাওয়াতেও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ‌এটি মারাত্মক পর্যায়ে গেলে অ্যালজাইমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোভিড রোগীদের মধ্যে এনসেফ্যালোপ্যাথি বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হওয়ায়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছোনোয় ডিমেনশিয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মস্তিষ্ক–‌কোষের কিছু বিশেষ অংশে প্রভাব ফেলায় অ্যালজাইমার ডিজিজ হতে পারে। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। তবে এর প্রভাব কত দিন ধরে থাকবে, তা জানতে রোগীদের ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যাঁদের ডিমেনশিয়া ছিল, কোভিডের পর তাঁদের মনোযোগ নষ্ট হয়েছে, চিন্তন–‌ক্ষমতা কমেছে, নতুন করে কোনও কিছু তৈরি করার ক্ষমতায় ভীষণ ভাবে প্রভাব ফেলেছে। কমবয়সিদের মধ্যেও এগুলি দেখা গেছে।’‌

আরও পড়ুন:‌ আমেরিকা, ইউরোপ, কোরিয়ার বাজার ধরতে চায় ভারতীয় চা

গজনি সিনেমায় আমির খান ভুলে যাওয়া কথা গায়ে লিখে মনে রাখতেন
‌‌

‌‌

আকর্ষণীয় খবর