সংবাদ সংস্থা, মেলবোর্ন: বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হারের। আর্দ্রতা কমলে বাড়ে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা। উল্টোদিকে, আর্দ্রতা ১ শতাংশ কমলে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৬ শতাংশ। এরকমই বলছেন এবার একদল গবেষক। 
মূলত অস্ট্রেলিয়া–‌সহ দক্ষিণ গোলার্ধের ওপর কাজের ভিত্তিতে প্রস্তুত গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে ‘‌ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যান্ড ইমার্জিং ডিজিসেস’‌ জার্নালে। এতে যে সম্ভাবনার কথাটি তুলে ধরা হয়েছে, তা হল, ‘‌কোভিড–‌১৯ একরকমের মরশুমি ব্যাধি হতেও পারে, যা কম আর্দ্রতার সময়ে ফিরে আসে।’‌ শীতকালই সম্ভবত এর আদর্শ সময়। জানান গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক মাইকেল ওয়ার্ড। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারীবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‌চীন, ইওরোপ বা উত্তর আমেরিকায় এই সংক্রমণ মহামারীর চেহারা নিয়েছে শীতেই। এই সময় অস্ট্রেলিয়ায় আবহাওয়া অন্যরকম— গ্রীষ্মের শেষ বা শরৎকাল। জলবায়ুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে কি না আমরা বোঝার চেষ্টা করি।’‌  গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে চীন ও হংকংয়ে সার্সের প্রকোপ এবং সৌদি আরবে মার্সের প্রকোপের সঙ্গে আবহাওয়ার সম্পর্ক লক্ষ করা গেছে। হালে চীনে কোভিডের প্রকোপেও দিনের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক লক্ষিত হয়েছে। ‌ওয়ার্ডের মতে, বাতাসে আর্দ্রতা কম হওয়াতেই সংক্রমণ বাড়ে শীতে। বাতাস যখন শুষ্ক, তখন হাঁচি–‌কাশির সঙ্গে নিঃসৃত কণাগুলি হয় ছোট, হাওয়ায় বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে তারা। তাতে অন্যদের এর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর্দ্রতা বেশি হলে এই কণাগুলি বড় ও ভারী হয়, বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে তুলনামূলকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কম। তবে গবেষকরা জানান, আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কতটা, তা ভাল করে বোঝার জন্য দেখতে হবে, শীতকালে সেখানে কী হয়। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top